সুপার কম্পিউটারের জাদুতে সিনথেটিক মহাবিশ্ব

জান্নাতুল ফেরদৌস
প্রকাশ: শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০২:৫২ অপরাহ্ণ
সুপার কম্পিউটারের জাদুতে সিনথেটিক মহাবিশ্ব

মহাবিশ্বের জন্মরহস্য উন্মোচনে মানবজাতি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। অত্যাধুনিক সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন একটি ‘সিনথেটিক মহাবিশ্ব’ বা কৃত্রিম মহাজাগতিক সিমুলেশন, যা বিস্ময়করভাবে আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্বের বাস্তব চিত্রের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এটিকে অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা ‘কোলিব্রি’ (COLIBRE) প্রকল্পের অধীনে এই ডিজিটাল মহাবিশ্ব তৈরি করেছেন। এটি বিগ ব্যাং-এর পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিলিয়ন বিলিয়ন বছরের বিবর্তন প্রক্রিয়াকে গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।একটি আস্ত মহাবিশ্বকে কম্পিউটারের পর্দায় ফুটিয়ে তোলার জন্য বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সুপার কম্পিউটারগুলোর সম্মিলিত শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এতে কয়েক ট্রিলিয়ন কণা (Particles) ব্যবহার করেছেন। এই সিমুলেশনটি কেবল নক্ষত্র বা গ্রহের অবস্থানই দেখায় না, বরং মহাবিশ্বের রহস্যময় ‘ডার্ক ম্যাটার’ এবং ‘ডার্ক এনার্জি’ কীভাবে গ্যালাক্সিগুলোকে ধরে রেখেছে, তারও একটি স্বচ্ছ ধারণা দেয়।

এই কৃত্রিম মহাবিশ্বের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো এর নির্ভুলতা। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) মহাকাশের গভীর থেকে যে ধরণের উচ্চ রেজোলিউশন ছবি পাঠাচ্ছে, এই সিমুলেশনের ফলাফল তার সঙ্গে প্রায় হুবহু মিলে যাচ্ছে। এর অর্থ হলো, মহাবিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের বর্তমান গাণিতিক মডেলগুলো সঠিক পথেই রয়েছে।বিজ্ঞানীরা এই ‘সিনথেটিক মহাবিশ্ব’কে আগামী দিনের মহাকাশ গবেষণার ‘গাইডবুক’ হিসেবে দেখছেন। ব্ল্যাক হোল কীভাবে গ্যালাক্সির বিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করে, সেই অমীমাংসিত রহস্য সমাধানেও এটি বড় ভূমিকা রাখবে। এটি মূলত একটি ‘ডিজিটাল ল্যাবরেটরি’, যেখানে বসে বিলিয়ন বছরের ইতিহাসকে কয়েক ঘণ্টায় পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। এই উদ্ভাবন প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তির সহায়তায় মানুষ এখন অসীম মহাকাশকে নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসছে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন