তৃণমূলের পরাজয়ে কি বড় ভূমিকা রেখেছে ভোটার তালিকা সংশোধন? স্ক্রলের চাঞ্চল্যকর তথ্য

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ণ
তৃণমূলের পরাজয়ে কি বড় ভূমিকা রেখেছে ভোটার তালিকা সংশোধন? স্ক্রলের চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যে ‘স্পেশাল ইনটেনটিভ রিভিশন’ (এসআইআর) বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বড় ধরণের প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ‘স্ক্রল ডট ইন’-এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্তত ১০৫টি আসনে বিজেপি এমন ব্যবধানে জয় পেয়েছে, যা ওইসব আসনে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যার চেয়েও কম।

বিতর্কিত এসআইআর প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় ৯১ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর ফলে রাজ্যের ভোটার তালিকা এক ধাক্কায় ১২ শতাংশ সংকুচিত হয়ে পড়ে। স্ক্রলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিজেপির জেতা ২০৭টি আসনের মধ্যে ১০৫টিতেই জয়ের ব্যবধানের চেয়ে এসআইআর-এ বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা বেশি ছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ১০৫টি আসনের মধ্যে ৮৬টিতে বিজেপি এর আগে কখনো জয়লাভ করেনি।


  • ভবানীপুর: তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজের শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুরে সুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে হেরে যান। অথচ এই আসনে এসআইআর-এ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল ৫১ হাজারেরও বেশি নাম।

  • যাদবপুর: বামপন্থীদের দীর্ঘদিনের এই দুর্গে প্রথমবারের মতো জিতেছে বিজেপি। এখানে ভোটার তালিকা থেকে ৫৬ হাজার নাম বাদ পড়েছিল, যেখানে বিজেপি জিতেছে ২৭ হাজার ৭১৬ ভোটের ব্যবধানে।

  • টালিগঞ্জ: হেভিওয়েট মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ২০ বছরের মধ্যে প্রথমবার এই আসনে পরাজিত হন। বিজেপি প্রার্থীর জয়ের ব্যবধান ছিল ৬ হাজার ১৩ ভোট, কিন্তু তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল প্রায় ৩৭ হাজার ৮৮৯ নাম।

পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিজেপিই ছিল একমাত্র দল যারা শুরু থেকেই এসআইআর প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানিয়ে আসছিল। অন্যদিকে, ২০২১ সালের নির্বাচনে ২১৫টি আসন পাওয়া তৃণমূল এবার মাত্র ৮০টি আসনে নেমে এসেছে। স্ক্রলের মতে, তৃণমূল তাদের দখলে থাকা ১২৯টি আসন হারিয়েছে এবং তার মধ্যে বড় একটি অংশের প্রধান কারণ হতে পারে এই ভোটার সংশোধন।

কলকাতাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সবার ইনস্টিটিউট’-এর সংকলিত তথ্য বলছে, এসআইআর-এর ফলে বাদ পড়া ৯১ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ২৭ লাখের ভাগ্য এখনো বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। এই বিপুল সংখ্যক ভোটার (যাদের অধিকাংশই তৃণমূল বা বামপন্থীদের সমর্থক হতে পারতেন) ভোট দিতে না পারায় নির্বাচনী ফলাফল নাটকীয়ভাবে বিজেপির পক্ষে চলে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিদায়ী সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী শশী পাঁজা, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী এবং মলয় ঘটকের মতো অন্তত ১০ জন নেতার পরাজয়ের ক্ষেত্রেও একই পরিসংখ্যান লক্ষ্য করা গেছে। অর্থাৎ, তাঁদের পরাজয়ের ব্যবধানের চেয়ে তাঁদের নিজ নিজ আসনে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল।

মন্তব্য করুন