গত ২৬ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি হিসাবমতে, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোট ৪৪ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৭৩৭ কোটি টাকা।
জেলাওয়ারী ক্ষয়ক্ষতির চিত্র:
| জেলা | ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ | আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ | ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক/পরিবার |
| কিশোরগঞ্জ | ১৩,০০০ হেক্টর (প্রায়) | ২৫৯ কোটি টাকা | ৪৯,৭১াস জন |
| হবিগঞ্জ | ১০,০৯৯ হেক্টর | ২১০.৬৭ কোটি টাকা | ২৩,৯০৪ জন |
| সুনামগঞ্জ | ১৬,৩৯৫ হেক্টর | ১৯৬ কোটি টাকা | ৫০,৯১৩টি পরিবার |
| মৌলভীবাজার | ৩,৫০০ হেক্টর | ৫০ কোটি টাকা | - |
| সিলেট | ৬৯২ হেক্টর | ১৫ কোটি টাকা | - |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ৯৩৯ হেক্টর | ৩.৯৭ কোটি টাকা | ৩,৫২৫ জন |
জেলায় উজান থেকে আসা ঢল ও জলাবদ্ধতায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের দাবি, সরকারি তালিকার চেয়ে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। ডিজেল সংকটের কারণে হার্ভেস্টার দিয়ে ধান কাটতে না পারায় বিপত্তি আরও বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় (মণপ্রতি ৬৫০ টাকা) উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে কৃষকরা দিশেহারা।
টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ১৬ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমির ধান চূড়ান্তভাবে নষ্ট হয়েছে। রোদ উঠলেও ধান শুকানোর জায়গার অভাব এবং শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় কৃষি বিভাগ তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। ধান সংগ্রহ অভিযান এগিয়ে এনে ৩ মে থেকে শুরু করা হয়েছে এবং ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান কিনছে সরকার। তবে নির্ধারিত মান বজায় রেখে ধান গুদামে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
জান্নাত/সকালবেলা