কুমিল্লা থেকে ১৮ বন্ধুর এক বিশাল দল নিয়ে আমরা রওনা হলাম প্রকৃতির কন্যা শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে। রাত বারোটার ট্রেন কিছুটা দেরিতে এলেও আমাদের উদ্দীপনায় কোনো কমতি ছিল না। ভোর চারটায় যখন শ্রীমঙ্গল স্টেশনে নামলাম, ভোরের সেই মৃদু স্যাঁতসেঁতে সবুজ গন্ধ আমাদের রাতের সব ক্লান্তি এক নিমিষেই দূর করে দিল।
লাল পাহাড় ও নুর জাহান চা বাগান: দিনের শুরুতেই আমরা গেলাম লাল পাহাড়ে। চা-বাগান আর লাল মাটির পাহাড়ের মিতালি সেখানে এক দারুণ দৃশ্যপট তৈরি করেছে। এরপর আমাদের গন্তব্য ছিল নুর জাহান চা বাগান। পাহাড়ের ধাপে ধাপে সাজানো চা-গাছের সারিগুলো দেখে মনে হয় কোনো দক্ষ শিল্পী নিপুণ হাতে এই সবুজ ক্যানভাস তৈরি করেছেন।
মাধবপুর লেক: তিন দিকে পাহাড়বেষ্টিত এই লেকের শান্ত জলে পাহাড়ের প্রতিফলন দেখে আমরা মুগ্ধ হলাম। বৃষ্টির আনাগোনা আমাদের ভ্রমণে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছিল। পাহাড়ের ওপর থেকে লেকের দৃশ্যটি ছিল সত্যিই অপার্থিব।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান: ১,২৫০ হেক্টর জুড়ে বিস্তৃত এই চিরহরিৎ বনে প্রবেশ করতেই আমরা বন্য প্রাণের সান্নিধ্য পেলাম। এই বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেললাইনেই ১৯৫৫ সালে বিখ্যাত হলিউড ছবি ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ’-এর শুটিং হয়েছিল। বনের গহীনে আমরা খাসিয়াপল্লিও ঘুরে দেখলাম।
অন্যান্য আকর্ষণ: রাবার বাগানের জ্যামিতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার পর আমরা গেলাম বিখ্যাত ‘নীলকণ্ঠ চা কেবিনে’ সাত রঙের চা খেতে। স্বাদ যেমনই হোক, শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্য হিসেবে এটি ছিল এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। এরপর সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানায় (বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন) মায়া হরিণ, লজ্জাবতী বানরসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী দেখে আমাদের সময় কাটল।
সারা দিনের আনন্দ শেষে আমাদের শেষ গন্তব্য ছিল ‘বধ্যভূমি ৭১’। স্বাধীনতার ত্যাগের মহিমায় ঘেরা এই স্থানে এসে আমাদের সবার মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।
সন্ধ্যায় ক্লান্ত শরীরে যখন আবার স্টেশনে ফিরলাম, তখন ব্যাগে করে নিয়ে ফিরছি এক বুক প্রশান্তি আর হাজারো স্মৃতি। শ্রীম