ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক : এক ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তার নাম মনিরুজ্জামান। তিনি রাষ্ট্রমালিকানাধীন একটি ব্যাংকের সিনিয়র বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগকারীর দাবি, কর্মক্ষেত্রে তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপকের কাছে ইমেইেলর মাধ্যমে অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন সময়ে নারীদের ব্যক্তিগত ও যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন এবং তাঁদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও এ ধরনের যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। তাঁর অনৈতিক প্রস্তাবে সম্মতি না দিলে কোনো নারী কর্মীর চাকরি, পদায়ন, বদলি কিংবা পেশাগত ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করার ভয় দেখানো হয়। একইভাবে চাকরি প্রদান বা অন্যান্য পেশাগত সুযোগের ক্ষেত্রেও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানকারী নারীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মানসিক চাপে রাখা এবং পেশাগত বা ব্যক্তিগত ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকের এক নারী কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, তিনি তাঁর পদমর্যাদা ও পেশাগত প্রভাব ব্যবহার করে আমার সাথে আপত্তিকর আচরণ করেন। বিভিন্ন সময়ে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শরীরের অন্তরঙ্গ অঙ্গের ছবি, অশালীন বার্তা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বিষয়বস্তু পাঠিয়ে থাকেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী গ্রাহক বলেন, আমার স্বামীss ব্যাংকের একজন গ্রাহক। সেই সুবাদে মনিরুজ্জামানের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তিনি আমাকে চাকরির আশ্বাস দেন। কিন্তু একপর্যায়ে তিনি আমাকে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক ও আপত্তিকর প্রস্তাব দিতে শুরু করেন। আমি তাঁর এসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিনি আমাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিতে শুরু করেন। একজন নারীর প্রতি এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সম্মান ও মর্যাদার জন্য হুমকিস্বরূপ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য আরেকজন নারী বলেন, চাকরির সন্ধান করতে গিয়ে ধানমন্ডি–কাঁঠালবাগান বাজার এলাকায় বসবাসকারী মনিরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তিনি নিজেকে ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন এবং আমাকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি আমাকে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক ও আপত্তিকর প্রস্তাব দিতে শুরু করেন। তাঁর আচরণে আমি বুঝতে পারি যে তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এরপর আমি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে চলতে শুরু করি।
এই বিষয়ে মনিরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একটি অভিযোগও সত্য নয়। কেউ হয়তো মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। আমি কখনো কাউকে চাকরির আশ্বাস দেই নি এবং ‘আমি কোনো ধরনের কোনো অনৈতিক কিছু করিনি।