নাটোরে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা: এমপি-পুত্র মিন্টুর ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৯ অপরাহ্ণ
নাটোরে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা: এমপি-পুত্র মিন্টুর ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
নাটোরে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল হত্যা মামলায় নাটোর-৪ আসনের এমপিপুত্র নুরুজ্জামান মিন্টুর ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন নাটোরের আদালত।

নাটোরের গুরুদাসপুরের পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে তিন দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। পুলিশ আসামির সর্বমোট ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন নাটোর জেলা আদালতের কোর্ট পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) আসমাউল হক।

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৫টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নুরুজ্জামান মিন্টুকে নাটোর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরবর্তীতে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান রিমান্ড সংক্রান্ত শুনানি শেষে এই আদেশের রায় দেন।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোরের গুরুদাসপুরে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত গুলি ও ধারালো অস্ত্রের হামলায় মারাত্মকভাবে আহত পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম দীর্ঘ লড়াই শেষে মৃত্যুবরণ করেন। এই নির্মম ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে নাটোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি চৌকস টিম নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে তাঁর নিজ বাসভবন থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টায় পুলিশ হেফাজতে নেয়।

পরবর্তীতে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ১টা ৪০ মিনিটে নাটোর জেলা গোয়েন্দা ডিবি পুলিশের ওই টিম মিন্টুকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাটোর জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে আসে।

এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাকিল মারা যান। গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় একদল দুর্বৃত্তের বর্বরোচিত হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। নিহত শাকিল গুরুদাসপুর পৌর সদরের কাছারিপাড়া এলাকার রবিউল করিম মিস্ত্রির ছেলে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলার দিন রাতে একটি মোটরসাইকেলে চেপে আসা হেলমেট ও মাস্ক পরিহিত দুইজন অজ্ঞাত যুবক প্রকাশ্যে শাকিলকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়েন। এ সময় গুলির শব্দে তিনি আতঙ্কে আত্মরক্ষার্থে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করেন। তবে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে এবং একপর্যায়ে তাদের সাথে থাকা চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে শাকিলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এতে শাকিলের হাতসহ পুরো শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ও আশপাশের মানুষ তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁর শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরবর্তীতে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরিভিত্তিতে তাঁকে ঢাকায় স্থান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে সোমবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

সামগ্রিক আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখার আলম জানান, শাকিল হত্যা মামলার সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও মূল রহস্য উদঘাটনের স্বার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে বিজ্ঞ আদালতের কাছে গ্রেপ্তারকৃত আসামির ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এখন ডিবি পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ চালাবে।