পীরগাছায় সাংবাদিকের ওপর হামলায় দুই শিক্ষক গ্রেপ্তার

প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ণ
পীরগাছায় সাংবাদিকের ওপর হামলায় দুই শিক্ষক গ্রেপ্তার

হাবিবুর রহমান হাবিব, পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগাছা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ সরকারের ওপর বর্বরোচিত ও সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় জড়িত দুই প্রভাবশালী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিবাগত গভীর রাতে পীরগাছা থানার এসআই মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— পীরগাছা সদর ইউনিয়নের তালুক ঈশাদ (শটিপাড়া) গ্রামের মৃত রইছ উদ্দিন ঘুঘুর ছেলে ও স্বচাষ তালতলা দাখিল মাদরাসার সুপার লুৎফর রহমান (৫৫) এবং পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে ও রামচন্দ্র মৌজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান (৪৫)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় স্বচাষ তালতলা দাখিল মাদরাসাসহ কয়েকটি কেন্দ্রে প্রক্সি বা ভুয়া পরীক্ষার্থী বসানো, টাকার বিনিময়ে জাল সনদ তৈরি এবং দেদারসে নকল বাণিজ্যের অকাট্য প্রমাণসহ ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুছ সরকার। এই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বচাষ তালতলা দাখিল মাদরাসার সুপার লুৎফর রহমান ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে একদল ভাড়াটে সন্ত্রাসী সাংবাদিক কুদ্দুছের ওপর অতর্কিত ও সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। হামলায় সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুছ সরকার গুরুতর জখম হন। এই নজিরবিহীন ঘটনার পর উপজেলার সর্বস্তরের সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আলটিমেটাম দেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

পীরগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা কামাল গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা রাতেই অভিযান পরিচালনা করি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা দুই লুৎফর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এই মামলার এজাহারভুক্ত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম বলেন, “গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ বা সাংবাদিকদের ওপর যেকোনো ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। সাংবাদিকের ওপর হামলার খবর পাওয়ামাত্র আমরা দ্রুততার সঙ্গে প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। অপরাধীদের বাঁচাতে রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো সুপারিশ খাটবে না। অন্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

এ.আই.এল/সকালবেলা