পর্যটকদের শ্লীলতাহানি ও ব্ল্যাকমেইল: রিসোর্ট ম্যানেজারসহ গ্রেপ্তার ২
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলায় বেড়াতে এসে বর্বরোচিত অপরাধের শিকার হয়েছেন দুই নারী পর্যটক। তাঁদের শ্লীলতাহানি, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি রিসোর্টের ব্যবস্থাপকসহ (ম্যানেজার) দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে লামা থানা-পুলিশ।
আজ সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— সংশ্লিষ্ট রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রাশেদ (২৫) এবং তাঁর সহযোগী মো. হৃদয় (২৮)। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুন কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে তিনজন পর্যটক বান্দরবানের মাতামুহুরী নদীতে নৌভ্রমণে বের হন। ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে লামা উপজেলা সদরের দিকে যাওয়ার পথে দলের একজন নারী পর্যটক হঠাৎ তীব্র অসুস্থতা বোধ করেন। তাঁর একটু বিশ্রামের প্রয়োজন হওয়ায় তাঁরা নদীর তীরবর্তী মানিকপুর এলাকার একটি রিসোর্টে ওঠেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, রিসোর্টে একটি কক্ষ নেওয়ার পর থেকেই ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রাশেদ ও তাঁর সহযোগী মো. হৃদয়ের আচরণ সন্দেহজনক হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাঁরা বাইরে থেকে ওই কক্ষের দরজা আটকে দেন। কিছু সময় পর আরও ৭-৮ জন বহিরাগত বখাটে যুবককে সাথে নিয়ে তারা জোরপূর্বক কক্ষে প্রবেশ করে পর্যটকদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই নারী পর্যটককে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং মোবাইল ফোনে সেই দৃশ্য ধারণ করে। একই সাথে নারীদের কানের দুল ও ব্যাগে থাকা নগদ ৪৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি কাউকে জানালে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পর্যটকরা লামা থানায় গিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ দ্রুত মাঠে নেমে ঘটনার মূল দুই হোতাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায়সার হামিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "মামলার পর অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের হেফাজত থেকে ভুক্তভোগী নারীর লুণ্ঠিত স্বর্ণের কানের দুল এবং নগদ ৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত এবং মামলায় অভিযুক্ত পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান অব্যাহত রেখেছে।"
এআইএল/সকালবেলা
|