পাবনায় আসামি স্বামীর মুক্তি চাইলেন বাদী স্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:২১ অপরাহ্ণ
পাবনায় আসামি স্বামীর মুক্তি চাইলেন বাদী স্ত্রী

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীতে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেই অভিযুক্ত আসামিকে বিয়ে করেছেন মামলার বাদী। বিয়ের পরদিনই আদালত স্বামীকে কারাগারে পাঠালে ভেঙে পড়েন তিনি। পরে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে মামলা প্রত্যাহারসহ নিজের স্বামীর দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন ওই তরুণী।

আজ সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে পাবনা সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান মামলার বাদী জান্নাতুল ফেরদৌসী। তিনি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার শৈলপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের মেয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জান্নাতুল ফেরদৌসী জানান, প্রেমের সম্পর্কের জেরে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগ এনে গত ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর তিনি চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার শাহান শরীফ রিপনের ছেলে মো. ইশতিয়াক হোসাইন রিফাতের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন (এফআইআর নং-১৭)। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সেই মামলাটি বর্তমানে পাবনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, "মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আমাদের দুই পরিবারের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে। পরবর্তীতে উভয় পরিবারের সম্মতি এবং আমার সম্পূর্ণ নিজস্ব ইচ্ছায় গতকাল রবিবার (২৮ জুন) পাবনা পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী মো. আব্দুল মজিদের মাধ্যমে ইশতিয়াক হোসাইন রিফাতের সাথে আমার শরীয়তসম্মত ও আইনি বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়েতে ৭ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়েছে এবং আমাদের দুই পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।"

নববধু জান্নাতুল জানান, বিয়ের পরদিনই আজ সোমবার (২৯ জুন) ওই মামলায় আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতে যান রিফাত। নববিবাহিত স্ত্রী জান্নাতুলকে সাথে নিয়ে তিনি বিজ্ঞ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। তবে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে পাবনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, "আমি আমার স্বামীর সাথে ঘরসংসার করতে চাই। আমাদের মধ্যে পারিবারিক সব বিরোধের চূড়ান্ত মীমাংসা হয়ে গেছে। আমি এখন আর এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে সামনে এগোতে ইচ্ছুক নই। আদালতের কাছে আমার আকুল আবেদন, আমাদের নতুন জীবনের কথা বিবেচনা করে আমার স্বামীকে মুক্তি দেওয়া হোক।"

সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবারের পাশাপাশি আসামি তথা বর্তমান বর মো. ইশতিয়াক হোসাইন রিফাতের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত থেকে এই বৈবাহিক সম্পর্কের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন