মাদারীপুরে জামায়াত নেতা তাইজুল ইসলামের ভিডিও ভাইরাল
নাজমুল হাসান, মাদারীপুর : মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় ঝাড়ফুঁক, পানি পড়া ও বিভিন্ন কবিরাজি চিকিৎসার আড়ালে নারীদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। নিলখী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি তাইজুল ইসলামের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে অভিযুক্ত তাইজুল ইসলামের নিজ বসতবাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান মিয়াজীর ছেলে এবং স্থানীয় ইউনিয়ন জামায়াতের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার দিন দুপুরে তাইজুল ইসলামকে নিজ বাড়ির একটি কক্ষের ভেতর এক নারীর সঙ্গে অত্যন্ত আপত্তিকর ও সন্দেহজনক অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। এ সময় তাঁদের হাতেনাতে অবরুদ্ধ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে এলাকার প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক নেতার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় ওই নারীকে দ্রুত সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পরদিন থেকেই তাইজুল ইসলামের একটি আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি, মেসেঞ্জার গ্রুপ ও পেজে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত তাইজুল দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন সহজ-সরল মানুষ ও নারীদের নানা ধরনের শারীরিক বা পারিবারিক সমস্যা সমাধানের প্রলোভন দেখিয়ে পানিপড়া ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে কথিত চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। এই চিকিৎসার আড়ালে তিনি বিভিন্নভাবে নারীদের প্রভাবিত ও ব্ল্যাকমেইল করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতেন বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর সরদার সংবাদমাধ্যমকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চিকিৎসা ও তাবিজ-কবচের কথা বলে সরলমনা নারীদের নিজের বাড়িতে ডেকে এনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। এসবের প্রতিবাদ বা বাধা দিতে গেলে তিনি ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিতেন। এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া একান্ত প্রয়োজন।”
এদিকে ঘটনার পর পরই প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় ভুক্তভোগী নারীকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম আত্মগোপনে চলে যান। তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনার বিষয়ে মাদারীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এনায়েত হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, “বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নীতির পরিপন্থী কোনো অপরাধ যদি তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়, তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে শিবচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত/অপারেশন) রাকিবুল হাসান জানান, “ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় কেউ দায়ের করেননি। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মসজিদের এক ইমাম নিজের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পুরো বিষয়টি পুলিশ নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে এবং সত্যতা সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”