কিশোরগঞ্জে যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান: খরমপট্টির সরকারি পুকুর পাচ্ছে নতুন রূপ
নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র খরমপট্টি এলাকায় অবস্থিত সরকারি পুকুরটিকে একটি দৃষ্টিনন্দন ও জনবান্ধব পরিবেশে রূপান্তরের লক্ষ্যে আজ এক বিশাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সরকারি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ পৌরসভা ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
পুকুরটিকে সচল ও পরিষ্কার করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বিডি ক্লিন কিশোরগঞ্জ’-এর ৭৫ জন উদ্যমী স্বেচ্ছাসেবী সদস্য। অভিযানের শুরুতেই তারা পুকুরে নেমে দীর্ঘদিনের জমে থাকা কচুরিপানা ও ভাসমান বর্জ্য অপসারণের কার্যক্রমে অংশ নেন। স্বেচ্ছাসেবীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিদর্শন শেষে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সোহানা নাসরিন উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পুকুরটি নিয়ে জেলা প্রশাসনের বেশ কিছু দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, কচুরিপানা সম্পূর্ণ অপসারণের পর দ্রুতই পুকুরের পানিতে চুন প্রয়োগ করে পানির গুণগত মান উন্নত করা হবে। পরবর্তীতে এখানে পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া পুকুরের চারপাশ সুরক্ষায় গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এখানে সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, "শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, পুকুরসহ জেলার সার্বিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।" এ সময় তিনি বিডি ক্লিনের সকল স্বেচ্ছাসেবী সদস্যকে তাদের এই নিঃস্বার্থ সেবামূলক কাজের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
উক্ত পরিচ্ছন্নতা অভিযানকালে জেলা প্রশাসকের পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা সরকারি পুকুরটি আবারও প্রাণ ফিরে পাবে এবং শহরের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
|