শুভ সরকার, নড়াইল: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর স্থিতিশীলতা, গ্রাহক আস্থা ও সুশাসন রক্ষাসহ ব্যাংকটির বিরুদ্ধে চলমান সকল প্রকার ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবিতে নড়াইলে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রবিবার (২৪ মে) সকাল ১০টায় ব্যাংকের নড়াইল শাখার সামনের প্রধান সড়কে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম নড়াইল’-এর আয়োজনে ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহক, স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকে ব্যাপক লুটপাট ও নজিরবিহীন অনিয়ম চালিয়েছে। ২০২৪ সালে ব্যাংকটিকে সেই লুটেরাদের কবল থেকে উদ্ধার করা হলেও, বর্তমানে আবারও সেই চক্রকে ব্যাংকে ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা ও গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এর ফলে ইসলামী ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিভিন্নভাবে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে এবং ব্যাংকের সুশাসন মারাত্মকভাবে ব্যাহত করা হচ্ছে।
ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে মানববন্ধনে বক্তারা বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো: ১. ইসলামী ব্যাংকের সুশাসন নিশ্চিত করতে এমডি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) মো. ওমর ফারুক খানকে স্বপদে পুনর্বহাল করা। ২. ব্যাংকের পরিবেশ ধ্বংসকারী ও ক্ষমতালোভী এএমডি কামাল উদ্দিন জসীমকে অনতিবிழமை বহিষ্কার করা। ৩. ব্যাংকের দৈনন্দিন কাজে অবৈধ হস্তক্ষেপ ও দৃশ্যমান উন্নতি না করতে পারার দায়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ড. জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগ। ৪. ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধ্বংসের সব ধরনের ষড়যন্ত্র অবিলম্বে বন্ধ করা। ৫. ইসলামী ব্যাংকের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। ৬. গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর আর্থিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ৭. ব্যাংক লুটেরা এস আলমকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচার কার্যকর করা।
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম নড়াইল কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মাকসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ গ্রাহকদের পক্ষে এ সময় দাবি-দাওয়া তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন—আবিদুর রহমান বাবু, মো. ফারুক হোসেন, মো. রিয়াজুল ইসলাম, মো. খালিদ হাসান, রিফাত, উম্মে সালমা জলি, মো. আসাদুজ্জামান এবং মো. মামুনুর রশিদ প্রমুখ। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি এই ব্যাংকটিকে বাঁচিয়ে রাখতে সাধারণ গ্রাহকেরা যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবেন।
এআইএল/সকালবেলা