আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল আজহার উৎসবের আবহেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের কৌশলগত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসে নতুন করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে ‘হুমকি সৃষ্টি করা’ ইরানের চারটি দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
গতকাল বুধবার (২৭ মে ২০২৬) মার্কিন সেন্টকমের পক্ষ থেকে এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, বন্দর আব্বাসের একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন) লক্ষ্য করে এই সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা চালানো হয়। মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, ওই নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি থেকে পঞ্চম আরেকটি ড্রোন উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছিল। মার্কিন বাহিনীর এই ত্বরিত আঘাতের পর পরই ইরানি গণমাধ্যমগুলো বন্দর আব্বাসের পূর্বাঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা নিশ্চিত করেছে।
তবে এই হামলার পেছনে ভিন্ন একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ। একটি নির্ভরযোগ্য সামরিক সূত্রের বরাতে তারা জানায়, আন্তর্জাতিক নৌ-আইন লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ রাডার বন্ধ রেখে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছিল একটি মার্কিন তেলবাহী ট্যাংকার। এ সময় সেখানে টহলরত ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী ওই ট্যাংকারটিকে সতর্ক করতে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এর জবাবে মার্কিন বাহিনী বন্দর আব্বাসের একটি পরিত্যক্ত এলাকায় পাল্টা হামলা চালায়। তাসনিম নিউজ দাবি করেছে, বিস্ফোরণের শব্দ মূলত এই কারণেই হয়েছিল এবং এতে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অত্যন্ত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘ তিন মাস ধরে যুদ্ধ অবসানের গোপন আলোচনা চলছে। এর মাঝেই এই সরাসরি সংঘাতের ঘটনা ঘটল, যা বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে নতুন করে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।
বুধবার ওয়াশিংটনে এক উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইরান যদি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি পুরোপুরি মেনে না নেয়, তবে তেহরানের ওপর আবারও বড় ধরনের বোমাবর্ষণ শুরু করা হতে পারে।” ট্রাম্প একই সাথে পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ স্বাক্ষর করার জন্য নতুন করে চাপ দেন।
মার্কিন এই বিমান হামলাকে ‘চলমান যুদ্ধবিরতির চরম ও নগ্ন লঙ্ঘন’ বলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, মার্কিন যেকোনো ধরনের বৈরী ও উসকানিমূলক আচরণের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। এরই মধ্যে ইরানের আকাশসীমায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করায় একটি মার্কিন অত্যাধুনিক ড্রোন ভূপাতিত এবং মার্কিন ফাইটার জেটে পাল্টা গুলি চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
তেহরানের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত হানার ‘বৈধ, সুনির্দিষ্ট ও আন্তর্জাতিক অধিকার’ ইরানের রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা
এম.এম/সকালবেলা