মদনে জামিনে ফিরেই বাদীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৫ অপরাহ্ণ
মদনে জামিনে ফিরেই বাদীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

মো. সাকের খান, মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার মদনে পূর্বশত্রুতার জেরে আদালত থেকে জামিনে বের হয়েই মামলাটির বাদী পক্ষের লোকজনকে কুপিয়ে জখম করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের পদমশ্রী নওধার গ্রামে। অভিযুক্তদের হুমকিতে একাধিক পরিবার বর্তমানে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে এবং নারী ও শিশুরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশুদের তুচ্ছ মারধরকে কেন্দ্র করে পদমশ্রী নওধার গ্রামের শান্ত মিয়ার দল এবং লোকমান মিয়ার দলের মধ্যে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এক রক্তাক্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় লোকমান মিয়া বাদী হয়ে মদন থানায় ১২ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় শান্ত মিয়ার পক্ষের হাবি মিয়া কিছুদিন জেলহাজতে ছিলেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর গত ৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকমান মিয়ার ভাই আক্কাস মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে কাঁচা রাস্তার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উক্ত ঘটনায় লোকমান মিয়া বাদী হয়ে গত ৫ আগস্ট শান্ত মিয়াসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে মদন থানায় পুনরায় নতুন মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে পদমশ্রী নওধার গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ভীতিজনক পরিবেশ। লোকমান মিয়ার পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলা ও হুমকির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে পুরুষ সদস্যরা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। একইসঙ্গে ভয়ে শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ রয়েছে এবং নারীরা দৈনন্দিন প্রয়োজনে বাজারে যেতেও আতঙ্কবোধ করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ক্রমশ রূপ নিচ্ছে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে। কয়েক দিন ধরে লোকমান মিয়ার ভাইয়ের ওপর হামলার পর থেকে পুরো গ্রামের শান্তি ব্যাহত হচ্ছে, অথচ ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

লোকমান মিয়ার স্ত্রী বিউটি আক্তার আকুল কণ্ঠে বলেন, "আমরা পূর্ণ নিরাপত্তা চাই। প্রতিপক্ষের ভয়ে আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছি না। আমার স্বামীসহ পরিবারের অন্য পুরুষ সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতার কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।"

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আনজু মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, "আমাদের লোকসংখ্যা বেশি—এটা সত্য। তবে আমরা এখন আপস করতে চাই। কয়েক দিন আগের মারামারিতে উভয় পক্ষই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও আহত হয়েছে।"

এ বিষয়ে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাউদ্দিন করিম কঠোর বার্তা দিয়ে জানান, "আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। অভিযোগ সত্য হলে ক্ষতিগ্রস্তদের অবিলম্বে থানায় আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

এদিকে গ্রামে পুনরায় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা সংঘর্ষ না ঘটে, সে জন্য এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ গ্রামবাসী।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন