ছাগলনাইয়ায় বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ

ছাগলনাইয়ায় বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ

সৌরাভ হোসেন, ছাগলনাইয়া প্রতিনিধি: ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় বন বিভাগের এক রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও উপকারভোগীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অফিস খরচের কথা বলে অন্তত ৩২ জনের কাছ থেকে ধাপে ধাপে টাকা নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরোনো মহাসড়কের দুই পাশে ২০১১ সাল থেকে ১০ বছরের জন্য বন অধিদপ্তর, ভূমির মালিক পক্ষ এবং উপকারভোগীদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় গাছ লাগানো হয়। এতে মোট ৩৪ জন উপকারভোগী যুক্ত ছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী, গাছ বিক্রির আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ বন অধিদপ্তর, ভূমির মালিক, উপকারভোগী, টিএসএফ ফান্ড ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে বণ্টনের কথা। এছাড়া উপজেলার জঙ্গল মিয়া সড়কের মোকামিয়া ব্রিজ থেকে মধুগ্রাম বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকাতেও একইভাবে গাছ রোপণ করা হয়।

উপকারভোগীদের অভিযোগ, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এসব গাছ সরকারিভাবে বিক্রি করা হলেও বিক্রির মোট অর্থ বা গাছের সংখ্যা সম্পর্কে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি। পরে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন মিয়া উপকারভোগীদের একত্র করে জানান, তাঁদের প্রাপ্য অর্থ ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। তবে এজন্য অফিসের কাগজপত্র প্রস্তুত, রেজিস্টারে নাম অন্তর্ভুক্তি ও সিলমোহর সংক্রান্ত খরচের কথা বলে প্রথমে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

পরবর্তীতে দরকষাকষির পর ৩২ জন সদস্য জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে মোট ৬৪ হাজার টাকা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই অর্থ কমিটির সভাপতি রোসনা ও সদস্য ছেমনার মাধ্যমে কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। এক মাস পর আবারও কাগজপত্র গুছানো ও কেরানির খরচের কথা বলে জনপ্রতি আরও ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। এতে অতিরিক্ত ৩২ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

গাছ বিক্রির প্রকৃত পরিমাণ বা উপকারভোগীদের প্রাপ্য অর্থ সম্পর্কে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি। এমনকি একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে সেখান থেকে সরে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে তাঁর মুঠোফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন