চুয়াডাঙ্গায় নিষিদ্ধ আ: লীগের ৭ নেতা গ্রেপ্তার

প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৯:০১ অপরাহ্ণ
চুয়াডাঙ্গায় নিষিদ্ধ আ: লীগের ৭ নেতা গ্রেপ্তার

জেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাতভর বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। 

গতকাল রবিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে আজ সোমবার (২২ জুন) ভোর ৫টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে একযোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) রুহুল কবীর খানের সার্বিক নির্দেশনায় সদর, দামুড়হুদা ও জীবননগর থানার একাধিক চৌকস দল সমন্বিতভাবে এই সাঁড়াশি অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অন্যতম হলেন— চুয়াডাঙ্গা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান (বাসিন্দা: শহরের সিঅ্যান্ডবি পাড়া)। গ্রেপ্তার হওয়া অন্য ছয়জন হলেন— সদর উপজেলার সুমিরদিয়া গ্রামের যুবলীগ নেতা রুহুল আমিন আশিক, জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তুহিন (মিনাজপুর), কাদিপুর গ্রামের যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন, দামুড়হুদা উপজেলার দলিয়ারপুর গ্রামের মন্টু, দলকা লক্ষ্মীপুর গ্রামের ফরজ আলী এবং ভগীরথপুর গ্রামের মমরেজ হোসেন।

পুলিশ জানায়, গত বছর সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া একাধিক সহিংসতা ও নাশকতা মামলায় এই আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযানটির মাঠ পর্যায়ের নেতৃত্বে ছিলেন সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান, দামুড়হুদা থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন এবং জীবননগর থানার ওসি সোলায়মান শেখ। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই নিষিদ্ধ সংগঠনের বিভিন্ন পদের সক্রিয় নেতাকর্মী। আজ সোমবার দুপুরে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের চুয়াডাঙ্গা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এবং এজাহারভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে এই বিশেষ চিরুনি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন