সরকারি দলের চেয়ে উন্নয়ন বরাদ্দ কম পাওয়ার অভিযোগ বিরোধীদলীয় এমপিদের

প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
সরকারি দলের চেয়ে উন্নয়ন বরাদ্দ কম পাওয়ার অভিযোগ বিরোধীদলীয় এমপিদের
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা

নির্বাচনি এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা। তাঁদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, সংসদ সদস্য হিসেবে সব দলের জনপ্রতিনিধিরা সমান সুযোগ ও বরাদ্দ পাচ্ছেন না; বরং সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে পরিকল্পিতভাবে বিরোধী জোটের এমপিদের কোণঠাসা ও বঞ্চিত করা হচ্ছে। এর ফলে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকায় তাঁদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গিয়ে বড় ধরনের সংকটে পড়ছেন।

সাধারণত সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ পেয়ে থাকেন। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সেই বরাদ্দ বাড়িয়ে এবার প্রতিটি সংসদীয় আসনের বিপরীতে বার্ষিক ১০ কোটি টাকার সমমানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এক বছর পার হওয়ার আগেই এই সরকারি প্রকল্প ও অর্থ বরাদ্দে বড় ধরনের বৈষম্যের অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলের নীতিনির্ধারক ও আইনপ্রণেতারা।

ঢাকা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি দলের একজন এমপি যেখানে পূর্ণাঙ্গ বা বড় অংকের বরাদ্দ পাচ্ছেন, সেখানে আমি বিরোধীদলের এমপি হওয়ায় মাত্র সামান্য কিছু বরাদ্দ পাচ্ছি। জনগণ আমাদের ওপর অগাধ আস্থা রেখে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, কিন্তু সরকার বিরোধীদলের এমপিদের ন্যায্য বরাদ্দ না দিয়ে প্রকারান্তরে সংবিধান ও জনগণের অধিকার লঙ্ঘন করছে।”

কুড়িগ্রাম-২ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, “দেখা যাচ্ছে বিরোধীদলীয় এলাকায় হয়তো ১০টি বা ২০টি মসজিদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সরকারি দলের এলাকায় একই খাতে ২৫টি প্রতিষ্ঠানে বড় অংকের টাকা দেওয়া হচ্ছে। আপনি যেকোনো দলেরই হোন না কেন, আমার মূল কথা হলো—এই এলাকার উন্নয়ন হওয়া মানেই তো সার্বিকভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন হওয়া। তাহলে কি কুড়িগ্রাম বা জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি প্রার্থীরা জিতেছে বলেই সেই এলাকাগুলো বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করবেন?”

সংসদের ভেতরে বিষয়টি একাধিকবার তুলে ধরা হলেও কাঙ্ক্ষিত কোনো প্রতিকার বা সমাধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, “বিরোধীদল হিসেবে আমাদের সাংবিধানিক ও সংসদীয় কাঠামোর মধ্যে থেকে প্রতিবাদ জানানো এবং প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর বায়েজ করা ছাড়া সরাসরি নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ নেই। সরকারকে চাপ সৃষ্টি করে জনগণের অধিকার আদায় করাই এখন আমাদের মূল কাজ।”

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও বরাদ্দ নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা বৈষম্যের এই সংস্কৃতি পুরোনো হলেও, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বৈষম্যের সুযোগ বা অবকাশ থাকা উচিত নয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেজবাহ-উল-আজম সওদাগর বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় যদি বিরোধীদল এবং সরকারি দলের বরাদ্দ নিয়ে এ ধরনের আকাশ-পাতাল পার্থক্য দেখা যায়, তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে। যেহেতু একটি কার্যকর সংসদ রয়েছে, তাই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি সংসদে আলোচনা করে আলোচনার মাধ্যমেই এর যৌক্তিক সমাধান করা উচিত।”

বিরোধীদলীয় এমপিদের মতে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজের ক্ষেত্রে এভাবে মূল্যায়ন না করা হলে তা পরোক্ষভাবে সাধারণ জনগণের মহামূল্যবান ভোট ও গণতান্ত্রিক রায়কেই অবমূল্যায়ন করার শামিল।

মন্তব্য করুন