অনলাইন ডেস্ক: রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য দেশে এত বিপুলসংখ্যক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘ডিফেক্টিভ’ বা ত্রুটিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই অকার্যকর কাঠামো ভেঙে সম্পূর্ণ নতুন এক শিক্ষাকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদানকালে এবি পার্টির এই শীর্ষ নেতা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “রাষ্ট্রকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে হলে এই ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাকাঠামো ভাঙতেই হবে। আমাদের সাহস করে বাস্তব সত্যটা বলতে হবে যে, দেশের অধিকাংশ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এখন ‘শাটডাউন’ বা বন্ধ করে দেওয়া দরকার। কারণ সাধারণ এই উচ্চশিক্ষার কোনো উৎপাদনশীলতা বা প্রোডাক্টিভিটি নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, “একটি সাধারণ পিয়নের চাকরি পাওয়ার জন্য উচ্চশিক্ষার কোনো প্রয়োজন নেই। তাই আমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে।”
দেশের গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের তীব্র আস্থার সংকটের চিত্র তুলে ধরে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, “আজ দেশের অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ ঠিক তার পাশের নূরানি বা ফোরকানিয়া মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। এর একমাত্র কারণ হলো রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থার ওপর থেকে সাধারণ মানুষের ভরসা উঠে গেছে।”
রাষ্ট্রীয় সেবার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যারা সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন, তাদের নিজেদের সন্তানরাই পড়ছে ইংলিশ মিডিয়াম বা নামী দামি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। একইভাবে দেশের নামকরা চিকিৎসকরা নিজেরা অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাড়ি জমান, মন্ত্রী-আমলারাও সামান্য সংকটে বিদেশমুখী হন। এই দ্বিচারিতা ও বৈপরীত্যগুলো প্রমাণ করে আমাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংকট কতটা গভীর।”
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নিজের ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, “একজন মানুষ তার জীবনের অধিকাংশ প্রয়োজনীয় ও ব্যবহারিক শিক্ষা ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যেই অর্জন করে ফেলে। তাই বছরের পর বছর ধরে চলা এই দীর্ঘমেয়াদি ও সার্টিফিকেট-সর্বস্ব শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তে সীমিত সময়ের মধ্যে জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতা শেখানোর ওপর আমাদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, একটি রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত তার নাগরিককে নিজের সমাজ, ইতিহাস ও আত্মপরিচয় সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান দেওয়া, বাস্তবভিত্তিক কর্মমুখী দক্ষতা শেখানো এবং নৈতিক শিক্ষার বিকাশ ঘটানো। ব্যারিস্টার ফুয়াদের দাবি, এই মৌলিক তিনটি বিষয় শেখাতে একজন শিক্ষার্থীর জন্য পাঁচ থেকে সাত বছরের বেশি প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
এআইএল/সকালবেলা