তৃণমূলকে সক্রিয় রাখতে মাঠের কর্মসূচিতে বিএনপি
১৯ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে এবং বিরোধীদের অপপ্রচার মোকাবিলায় নতুন করে মাঠের কর্মসূচিতে ফিরছে বিএনপি। ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং ‘গণভোট’ ইস্যুতে সৃষ্ট রাজনৈতিক মতবিরোধের প্রেক্ষিতে জনমত গঠন ও সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে এই উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, রাষ্ট্র সংস্কারে গৃহীত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দলের প্রতিশ্রুতি এবং গণভোট নিয়ে দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করতেই এই কর্মসূচি। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি প্রতিটি এলাকার সংসদ সদস্যদের তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় করে লিফলেট বিতরণ, পথসভা ও উঠান বৈঠকের মতো কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার ঝালকাঠিতে যুবদলের পক্ষ থেকে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “কিছু রাজনৈতিক দল সংস্কার ইস্যুতে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়। আমরা শুধু সংস্কার চাই না, তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নও করব।” অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানালেও উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় তারা জনগণের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মনে করেন, দল ও সরকার মিলেমিশে একাকার হলে সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ জন্য তিনি সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রমকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। তৃণমূলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং ক্ষোভ নিরসনে এই সাংগঠনিক তৎপরতা ভূমিকা রাখবে বলে নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন।
আসন্ন ঈদুল আজহার পরপরই বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা, মহানগর এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ত্যাগী ও যোগ্যদের মূল্যায়নের মাধ্যমে দলকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।