তারেক রহমানের চীন সফর: জ্বালানি ও ইভি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান
সফরকালে দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এ অংশগ্রহণের পাশাপাশি বেইজিংয়ে বিনিয়োগকারীদের সাথে বড় ধরনের সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা। পররাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সূত্রমতে, এই সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার বৈদ্যুতিক যান উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করছে। প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের এই খাতগুলোতে চীনা প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের জোয়ার আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুই দেশ যৌথভাবে সবুজ জ্বালানি ও ইভি নিয়ে গবেষণার পরিকল্পনাও করছে।
সফরে নীলফামারীতে ১,০০০ শয্যার ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠা এবং মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের জন্য চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া তিস্তা ব্যারেজ, পদ্মা ব্যারেজ, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতুর মতো মেগা অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য চীনা অর্থায়ন চাইবে বাংলাদেশ। বর্তমানে চীনের ঋণে বাস্তবায়নাধীন ডিপিডিসি ও ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ পাঁচটি প্রকল্পের ঋণ ছাড় ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার অনুরোধও জানাবে সরকার।
চীনের এসসিও ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেম (সিআইপিএস) এবং ‘পান্ডা বন্ড’ চালুর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের কৌশলগত আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, এই সফর বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক আধুনিকায়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জান্নাত সকালবেলা
|