পরিবেশ দূষণ রোধে কঠোর প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক:রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার বায়ু এবং শব্দ দূষণ প্রতিরোধে এক জরুরি ও উচ্চপর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরিবেশের গুণগত মান উন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই বৈঠকে বায়ু ও শব্দ দূষণ রোধে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
ইটভাটার দূষণ রোধ ও গ্রিন টেকনোলজি:দেশের সামগ্রিক বায়ু দূষণের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত সনাতন পদ্ধতির ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে। প্রধানমন্ত্রী পরিবেশের ক্ষতি না করে পরিবেশবান্ধব বিকল্প আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রিন ইট উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। আইন অমান্যকারী ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার:রাজধানী ঢাকায় যানবাহনের যত্রতত্র ও অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট তীব্র শব্দ দূষণ কীভাবে স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়ে বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে কেবল জরিমানা বা মৌখিক সতর্কতায় সীমাবদ্ধ না থেকে আরও কঠোর ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
এর পাশাপাশি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত আধুনিক ‘এআই (AI) ক্যামেরা’র মতো হাইড্রোলিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত হর্ন নিয়ন্ত্রণেও কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ও সেন্সর ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আলোচনা হয়।
মেয়াদোত্তীর্ণ যান অপসারণ ও অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট:বায়ু দূষণের আরেকটি বড় কারণ কালো ধোঁয়া ছড়ানো গণপরিবহন। প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পরিবেশ দূষণকারী পুরনো বাস, ট্রাক ও অন্যান্য বাণিজ্যিক যানবাহন দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপসারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং যানজটজনিত কারণে সৃষ্ট বায়ু দূষণ কমাতে ঢাকার আরও অন্তত ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ‘অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম’ বা স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সংকেত ব্যবস্থা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সচল ও চালু করার জন্য স্পষ্ট তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে ঢাকার পরিবেশগত পরিস্থিতিতে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
|