অপসারণকে ‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’ বললেন তাজুল ইসলাম

অপসারণকে ‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’ বললেন তাজুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে অপসারণের বিষয়টিকে একটি ‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সদ্য বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “যখন একটি নির্বাচিত সরকার আসে, তারা স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের পছন্দনীয় লোক বসায়; এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।”

আগে থেকে আভাস পেলেও কেন পদত্যাগ করেননি—এমন প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তাকে পদত্যাগ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “সরকার চেয়েছিল ন্যাচারাল প্রসেসে রিপ্লেসড হতে। পদত্যাগ করলে ভিন্ন বার্তা যেতে পারত, তাই আমি মনে করেছি পদত্যাগ করা যুক্তিযুক্ত নয়।” প্রায় ১৭ মাস দায়িত্ব পালনের পর এই বিদায়কে ‘অম্ল-মধুর’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও জানান, এখন থেকে তিনি পুনরায় সুপ্রিম কোর্টে তার পুরনো আইন পেশায় মনোনিবেশ করবেন।

এর আগে সোমবার সকালেই তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলামকে নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়। নতুন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হবেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের আইনজীবী হিসেবে আইনি লড়াই করে আলোচিত হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি ‘এবি পার্টি’র (আমার বাংলাদেশ পার্টি) যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

নতুন নিয়োগ পাওয়া অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলামের পৈতৃক নিবাস হবিগঞ্জ জেলায়। তিনি ১৯৯৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০২১ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম নতুন উত্তরসূরিকে স্বাগত জানিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, তিনি যেন রেখে যাওয়া অসমাপ্ত দায়িত্বগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারেন।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন