নারীদের জন্য বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা
লাইফস্টাইল ডেস্ক : প্রকৃতির এক অনন্য ও পুষ্টিকর আশীর্বাদ হলো বিটরুট। কম ক্যালোরিযুক্ত এবং উচ্চ পুষ্টিগুণে ঠাসা এই সবজিটিকে আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের ভাষায় ‘সুপারফুড’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজে সমৃদ্ধ। যদিও বিটরুট সব বয়সের মানুষের জন্যই সমান উপকারী, তবে নারীদের বিশেষ কিছু শারীরিক গঠন, হরমোনের পরিবর্তন এবং প্রজনন স্বাস্থ্যের অনন্য চাহিদার কারণে নারীদের ডায়েটে বিটরুট থাকা প্রায় আবশ্যক।
আজ বুধবার (৩ জুন) সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘লাইফস্টাইল’ ও ‘স্বাস্থ্য ও পুষ্টি’ বিভাগের এক বিশেষ ফিচারে নারীদের সুস্থতায় বিটরুটের জাদুকরী ভূমিকার নানান দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
পুষ্টিবিদদের মতে, বিটরুটে থাকা উচ্চমাত্রার ফোলেট নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যকে ভেতর থেকে মজবুত করে, যা বিশেষ করে সন্তানধারণে ইচ্ছুক নারীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া বিটরুটের প্রদাহ-বিরোধী (Anti-inflammatory) এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য ত্বকের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য উন্নত করে। এটি দীর্ঘদিনের ক্লান্তি ও নিস্তেজ ভাব দূর করার পাশাপাশি ত্বকে এনে দেয় এক চমৎকার প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা।
বিশ্বজুড়ে অধিকাংশ নারীই আয়রনের ঘাটতি বা অ্যানিমিয়া (Anemia) সমস্যায় ভুগে থাকেন। বিটরুটে থাকা প্রচুর পরিমাণ আয়রন এবং ফোলেট উপাদান শরীরের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা সঠিক পর্যায়ে বজায় রাখতে সরাসরি সাহায্য করে। বিশেষ করে প্রতি মাসের মাসিকের (Period) দিনগুলোতে যখন শরীর থেকে প্রচুর আয়রন ক্ষয় হয়, তখন বিটরুটের রস বা সালাদ শরীরে নতুন রক্তকণিকা তৈরিতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
বিখ্যাত চিকিৎসা গবেষণা সংস্থা ‘ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন’–এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিটরুটের রস শরীরে প্রবেশের পর প্রাকৃতিক উপায়ে ‘নাইট্রিক অক্সাইড’ তৈরি করে। এই উপাদানটি রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত হতে দেয় না বরং প্রসারিত করে, যা উচ্চ রক্তচাপ (Blood Pressure) নিয়ন্ত্রণে রাখতে জাদুর মতো কাজ করে। তাই হৃৎপিণ্ড সুস্থ ও সচল রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিটরুটের জুস রাখা খুবই উপকারী।
কৃত্রিম কসমেটিকসের চেয়ে ভেতরের পুষ্টিই ত্বককে বেশি সুন্দর রাখে। যারা কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ত্বকের আসল উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে চান, তারা নিয়মিত বিটরুট খেতে পারেন। এর ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তকে ভেতর থেকে বিশুদ্ধ করে এবং ত্বকের ভেতরের প্রদাহ বা ব্রণ কমায়। এটি নিয়মিত খেলে প্রাকৃতিকভাবেই উজ্জ্বল ও লাবণ্যময় ত্বক পাওয়া সম্ভব।
কর্মজীবী বা ঘরকন্না সামলানো নারীদের সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে প্রতিদিন এক কাপ বিটরুটের রস দারুণ এনার্জি বুস্টার হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরে অক্সিজেনের কার্যকারিতা ও রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে পেশীর ক্লান্তি দূর হয় এবং শরীর দীর্ঘক্ষণ সতেজ ও শক্তিশালী থাকে।
গর্ভকালীন সময়ে গর্ভের ভ্রূণের সর্বোত্তম ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য চিকিৎসকেরা মায়েদের আয়রন এবং ফোলেট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার কড়া তাগিদ দেন। বিটরুটের রসে উচ্চ মাত্রায় ফোলেট বা ফলিক অ্যাসিড থাকে, যা গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডের সুস্থ গঠনে ও জন্মগত ত্রুটি রোধে অনন্য ভূমিকা রাখে।
বিটরুট স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী হলেও এর কিছু স্বাভাবিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত।
বিটরুট খাওয়ার পর অনেক সময় প্রস্রাব বা মল সাময়িকভাবে লাল বা গোলাপি রঙের হয়ে যেতে পারে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘বিটুরিয়া’ বলে। এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং হজম ব্যবস্থার কোনো ক্ষতি করে না, তাই ভয়ের কিছু নেই। যাদের আগে থেকেই কিডনিতে পাথর (Kidney Stones) হওয়ার সমস্যা বা পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে, তাদের বিটরুটের রস খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ বিটরুটে উচ্চ মাত্রার ‘অক্সালেট’ থাকে, যা কিডনিতে পাথর তৈরির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
জান্নাত সকালবেলা
|