ইরানের পারমাণবিক তথ্যে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশ: শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ
ইরানের পারমাণবিক তথ্যে ২ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের গোপন ও স্পর্শকাতর পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারলে সর্বোচ্চ ২ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা) নগদ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই পুরস্কারের কথা নিশ্চিত করে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশেষ ও বিশ্বখ্যাত কর্মসূচি ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ (Rewards for Justice)-এর আওতায় বিপুল পরিমাণ এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।

সেন্টকমের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সাথে সরাসরি যুক্ত যেকোনো স্থাপনা, অবকাঠামো, কৌশলগত সরঞ্জাম কিংবা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নিয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও ব্যক্তিবর্গের অবস্থান বা যাতায়াত সম্পর্কিত তথ্য দিলে এই কোটি ডলারের পুরস্কার পাওয়া যাবে। তথ্যদাতার নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কায় তাকে এবং তার পরিবারকে প্রয়োজনে অন্য যেকোনো নিরাপদ দেশে পুনর্বাসন (Relocation) বা সরিয়ে নেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থাও রেখেছে ওয়াশিংটন।

এদিকে, মার্কিন সেনার এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরপরই ফ্লোরিডার নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারে আয়োজিত এক সমাবেশে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নিজের গৃহীত সামরিক পদক্ষেপ ও কঠোর অবস্থানের জোরালো পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, "আমার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়োপযোগী সামরিক অভিযানের কারণেই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারেনি। যদি আমি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দিতাম, তবে আজ মানচিত্র থেকে ইসরায়েলের অস্তিত্বই পুরোপুরি মুছে যেত। যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া এসব কঠোর পদক্ষেপ শুধু ইসরায়েল নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছে।"

পরবর্তীতে তাঁর নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালেও (Truth Social) একই ধরণের পোস্ট দিয়ে ট্রাম্প লেখেন, "কেউ প্রকাশ্যে স্বীকার করতে না চাইলেও এ সত্য সবারই জানা যে, আমার দৃঢ় পদক্ষেপই আজ অঞ্চলটিকে টিকিয়ে রেখেছে।"