ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশ: শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৬ অপরাহ্ণ
ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নানী আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরকে ‘জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর’ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, ইতিহাস-সচেতন বর্তমান প্রজন্ম ৭ নভেম্বরের অনুপম প্রেরণায় উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ থাকলে স্বাধীন বাংলাদেশ আর কখনো পথ হারাবে না।

আজ শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) সকালে রাজধানী ঢাকার বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরত প্রদর্শন অনুষ্ঠানে সস্ত্রীক প্রধান অতিথির আসনে যোগ দিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ভাষণ প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ১৯৭৫ সালের পটভূমি স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী জনগণের কাছে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গৌরবের একটি দিন। ওই বছরের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যখন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চরম আকার ধারণ করেছিল এবং ২ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়েছিল, তখন দেশের কোটি সাধারণ সিপাহি ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে সেই ধ্বংসাত্মক চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল।"

তিনি আরও বলেন, "যারা বাংলাদেশকে একটি তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ভুলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটেছিল।"

একটি জাতির পথপরিক্রমায় ইতিহাসের গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, "একটি জাতির ইতিহাস কেবল অতীতের গতানুগতিক স্মৃতিচারণ নয়; বরং শুদ্ধ ইতিহাস হলো একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা এবং একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের সবচেয়ে বড় প্রেরণা। আজকের এই আয়োজনে আমাদের হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী যেভাবে নির্মোহভাবে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ডিসপ্লে ও কসরতের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে, তাতে আমি গভীরভাবেই বিশ্বাস করি— ইতিহাস-সচেতন এই তারুণ্য ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উজ্জীবিত থাকলে বাংলাদেশ আর কখনোই তার সঠিক পথ হারাবে না।"

তরুণ সমাজের দেশপ্রেমের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, "যে দেশের তারুণ্য সঠিক জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত নয়, সেই দেশের জনগণের জাতীয় ঐক্য কোনোদিনই সুদৃঢ় হতে পারে না। একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বর তাবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার বিপ্লব, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা চব্বিশের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান— প্রতিটি ঐতিহাসিক সংকটে আমাদের তারুণ্য প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে তারা কখনোই বিন্দুমাত্র আপস করেনি। তাদের মূল মন্ত্র ছিল— সবার আগে বাংলাদেশ।"

ভবিষ্যতের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে এই দেশ ও জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করতে না পারে এবং বাংলাদেশকে পুনরায় কোনো তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই হোক আমাদের এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান এবং অবিচল অঙ্গীকার। আর এই পবিত্র অঙ্গীকার সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য।"

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, মন্ত্রিসভার সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যগণ, সরকারের উচ্চপদস্থ সামরিক-সিভিল কর্মকর্তারা এবং ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন বন্ধুভাবাপন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতরা।