চীনের গুয়াংজিতে ভয়াবহ বন্যায় ৩৯ জনের মৃত্যু; ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৯ অপরাহ্ণ
চীনের গুয়াংজিতে ভয়াবহ বন্যায় ৩৯ জনের মৃত্যু; ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অস্বাভাবিক মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাবে দক্ষিণ চীনের গুয়াংজি (Guangxi) অঞ্চলে সৃষ্ট স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে পৌঁছেছে। প্লাবিত অঞ্চলগুলো থেকে এখনও অন্তত ৯ জন বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন বলে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আরব নিউজ ও আল-জাজিরার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

টানা বেশ কয়েকদিনের মুষলধারে বৃষ্টি ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে গুয়াংজির বিস্তীর্ণ এলাকা পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এই চরম আবহাওয়ার মধ্যেই একটি শক্তিশালী ও বিপজ্জনক ‘সুপার টাইফুন’ চীনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে, যা দেশটির সামগ্রিক দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘সিনহুয়া’র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই বন্যার সবচেয়ে বড় বিপর্যয়টি ঘটেছে অঞ্চলের ‘লিউডান’ বা লিউলান জলাধারের (Liulan Reservoir) একটি প্রধান প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে। বাঁধের ওই অংশটি পানির প্রবল চাপ সহ্য করতে না পেরে ভেঙে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে আশেপাশে থাকা ডজনখানেক গ্রাম প্লাবিত হয়। কেবল এই বাঁধ ভাঙার ঘটনাতেই ২৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ওই নির্দিষ্ট এলাকা থেকেই এখনও ৭ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

গত বুধবার বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলো পরিদর্শনে গিয়ে ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি (AFP) এর সাংবাদিকরা জানান, বেশ কিছু এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে যেতে শুরু করলেও বিস্তীর্ণ রাস্তাঘাট, ফসলি জমি এবং অসংখ্য বাড়িঘর এখনও ঘন ও পুরু কাদায় ঢেকে আছে। বন্যার তোড়ে গ্রামীণ সড়ক ও সেতু ভেঙে যাওয়ায় নদীর অপর পাড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে আটকে পড়া হাজার হাজার মানুষের কাছে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি ওষুধি সামগ্রী পৌঁছে দিতে উদ্ধারকারীরা বড় আকারের বিশেষ কার্গো ড্রোন ব্যবহার করছেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি (CCTV)-র সম্প্রচারিত ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, লিউলান জলাধারের ভেঙে পড়া অংশ দিয়ে অত্যন্ত প্রচণ্ড ও বিধ্বংসী গতিতে পানি লোকালয়ের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই উদ্ধারকর্মীরা লাইফ জ্যাকেট পরে অত্যাধুনিক রাবার বোটে করে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ বন্যাকবলিত এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন।

এদিকে, যেসব এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে, সেখানকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা ধসে পড়া বাড়িঘর পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছেন। কাদার নিচে আটকে থাকা আসবাবপত্র, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং রাস্তার বড় বড় ধ্বংসাবশেষ সরাতে অনেক এলাকায় এক্সকাভেটর বা ভারী বুলডোজার ব্যবহার করতে দেখা গেছে বন্যাদুর্গতদের। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ধেয়ে আসা সুপার টাইফুনের প্রভাবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় পূর্ব ও দক্ষিণ চীনে আরও ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

মন্তব্য করুন