ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও তেলবাহী জাহাজে হামলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাতিসংঘে কাতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৭ অপরাহ্ণ
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও তেলবাহী জাহাজে হামলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে জাতিসংঘে কাতার

অনলাইন ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে নিজ ভূখণ্ড ও সমুদ্রসীমায় ইরানের একের পর এক সশস্ত্র হামলার অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং সংস্থাটির মহাসচিবের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে কাতার। চিঠিতে হামলার কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে ইরানের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে দোহা।

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ৭ জুলাই কাতারের তেলবাহী জাহাজ 'আল রেকায়াত'-এ আক্রমণ এবং ১২ জুলাই কাতারের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তথ্য উল্লেখ করে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। কাতার সশস্ত্র বাহিনী অবশ্য ভূখণ্ডে আসা ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে ধ্বংস করার দাবি জানিয়েছে।

দোহার অভিযোগ, এ জাতীয় হামলা চালিয়ে কাতার এবং এর সার্বভৌম সম্পদের ওপর আঘাত হানার মাধ্যমে ইরান সরাসরি আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোর গুরুতর লঙ্ঘন করেছে। এর ফলে সৃষ্ট আর্থিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতির শতভাগ দায়ভার ইরানকেই বহন করতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া ভৌগোলিক নিরাপত্তা রক্ষায় কাতার প্রয়োজনবোধে এর উপযুক্ত জবাব দেওয়ার সার্বভৌম অধিকার সংরক্ষণ করে বলেও জাতিসংঘকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইউকেএমটিও (UKMTO) জানিয়েছে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ 'হরমুজ প্রণালি' ও ওমান উপকূলের কাছে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি জাহাজে অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে তেহরান দাবি করেছে, তাদের সঙ্গে পূর্ব সমন্বয় না করে এবং আঞ্চলিক সমঝোতা স্মারক তোয়াক্কা না করে এসব জাহাজ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট ব্যবহার করছে। ইরান আরও অভিযোগ করেছে, ওয়াশিংটন ও তাদের মিত্রদেশগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করতে অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে উৎসাহ জোগাচ্ছে, যা পুরো কৌশলগত নৌপথটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে।

মন্তব্য করুন