তিউনিসিয়ার উপকূলে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: ১২ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার
অনলাইন ডেস্ক: ইউরোপে উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্নে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টাকালে তিউনিসিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব জারজিস উপকূলে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জন অভিবাসীর নিথর মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) এক সরকারি বার্তায় তথ্যটি নিশ্চিত করেছে তিউনিসিয়ান ন্যাশনাল গার্ড।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানানো হয়, গত শুক্রবার রাতে উপকূলভাগ থেকে আনুমানিক ১৪ নটিক্যাল মাইল দূরে মোট ১৫ জন আরোহী নিয়ে ভ্রমণরত কৃত্রিম ডিঙ্গি নৌকাটি হঠাৎ সমুদ্রের ঢেউয়ের তোড়ে উল্টে তলিয়ে যায়। কোস্টগার্ডের তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতায় মাত্র ১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকিরা সাগরে ভেসে যান। পরে শনিবার ৩ জন এবং রবিবার সকালে আরও ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনও নিখোঁজ থাকা অপর ২ জনের খোঁজে উদ্ধারকারী দল সাগরে টহল অব্যাহত রেখেছে।
মর্মান্তিক এই প্রাণহানির ঘটনা জানাজানি হতেই তিউনিসিয়ার সীমান্তবর্তী শহর বেন গেরদানে তীব্র শোক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহত ও নিখোঁজদের মধ্যে ১৪ জনই স্থানীয় বাসিন্দা ছিলেন। ক্ষুব্ধ স্বজনেরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিচার ও সুরক্ষার দাবিতে শনিবার রাতে সড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আফ্রিকা মহাদেশ থেকে ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপের দূরত্ব তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় তিউনিসিয়া উপকূলটি ইউরোপমুখী অবৈধ অভিবাসনের প্রধানতম ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় সমুদ্রপথটি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রাণঘাতী রুটে পরিণত হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালে এই বিপজ্জনক পথে ইউরোপ পৌঁছানোর চেষ্টায় ৯ শতাধিক মানুষ মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।