আনুশকার ১৭ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন সামান্থা রুথ প্রভু
বিনোদন প্রতিবেদক: দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর নতুন সিনেমা ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’ বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তুলেছে। মুক্তির মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই ছবিটির ঝুলিতে এসেছে এক অভাবনীয় সাফল্য। তেলুগু সিনেমার ইতিহাসে দীর্ঘ ১৭ বছরের পুরোনো একটি রেকর্ড ভেঙে নতুন নজির গড়েছেন সামান্থা। এর মাধ্যমে তিনি পেছনে ফেলেছেন আরেক জনপ্রিয় তারকা আনুশকা শেঠির দীর্ঘদিনের এক অনন্য কীর্তিকে।
পরিচালক বিভি নন্দিনী রেড্ডির নির্মাণে গত ১৯ জুন বড় পর্দায় মুক্তি পায় নারীপ্রধান সিনেমা ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’। মুক্তির মাত্র ১০ দিনে বিশ্বব্যাপী ছবিটির আয় ইতোমধ্যেই ৭৮ কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া আনুশকা শেঠি অভিনীত কালজয়ী সিনেমা ‘অরুন্ধতী’র ৭০ কোটি রুপির লাইফটাইম কালেকশনকে অনায়াসেই টপকে গেছে এটি। উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তেলুগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নারীপ্রধান সিনেমাগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ডটি এককভাবে ‘অরুন্ধতী’র দখলে ছিল।
তবে আনুশকার রেকর্ড ভাঙলেও সামান্থার সামনে এখন রয়েছে আরও বড় এক চ্যালেঞ্জ। তেলুগু ভাষার নারীপ্রধান সিনেমার ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ডটি এখনও নিজের দখলে রেখেছে ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মহনতি’। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী কীর্তি সুরেশ অভিনীত সেই ছবির মোট আয় ছিল ৮৩ কোটি রুপি।
বক্স অফিস বিশ্লেষকদের ধারণা, থিয়েটারগুলোতে যেভাবে দর্শক খরা কাটিয়ে সামান্থার সিনেমাটির বর্তমান গতিধারা অব্যাহত রয়েছে, তাতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’ সেই রেকর্ডও ভেঙে চুরমার করে দেবে। আর তা হলে তেলুগু ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী নারীপ্রধান সিনেমার মুকুটটি উঠবে সামান্থার মাথায়।
তেলুগু চলচ্চিত্রে সচরাচর পুরুষ তারকা ও নায়কনির্ভর সিনেমার আধিপত্যই বেশি দেখা যায়। ১০০, ৫০০ কিংবা ১ হাজার কোটি রুপির ক্লাবে সাধারণত পুরুষ সুপারস্টারদের বাণিজ্যিক ছবিগুলোই রাজত্ব করে। সেই চেনা বাস্তবতায় একজন নারী অভিনেত্রীর কাঁধে ভর করে কোনো সিনেমার এমন অবিশ্বাস্য বাণিজ্যিক সাফল্যকে ইন্ডাস্ট্রির ইতিবাচক পরিবর্তনের বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।
পারিবারিক ড্রামা ও অ্যাকশন ঘরানার ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’ ছবিতে সামান্থা রুথ প্রভুর প্রধান চরিত্রের পাশাপাশি আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন গুলশান দেবাইয়া, দিগন্ত মানচালে, চৈতন্য কৃষ্ণ ও শ্রীমুখিসহ একঝাঁক তারকা।
|