ঢাকাই চলচ্চিত্রের ‘অ্যাকশন কিং’ জসিমের জন্মদিন আজ

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৩ অপরাহ্ণ
ঢাকাই চলচ্চিত্রের ‘অ্যাকশন কিং’ জসিমের জন্মদিন আজ
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অ্যাকশন নায়ক জসিম

বিনোদন ডেস্ক: বাংলা চলচ্চিত্রের রূপালি পর্দায় আধুনিক ও রোমাঞ্চকর অ্যাকশনের আবহ তৈরি করা গুণী শিল্পীদের কথা স্মরণ করলে যার নাম সবার আগে উচ্চারিত হয়, তিনি হলেন কালজয়ী মহাতারকা জসিম। ঢাকাই চলচ্চিত্রে ‘অ্যাকশন কিং’ হিসেবে খ্যাত এই জনপ্রিয় অভিনেতা শুধু পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও ছিলেন এক সত্যিকারের বীর। তিনি একাধারে ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, শক্তিমান অভিনেতা এবং দর্শকের অকৃত্রিম ভালোবাসায় অমলিন এক অনন্য কিংবদন্তি।

আজ ১৪ আগস্ট বাংলা চলচ্চিত্রের এই মহানায়কের জন্মদিন। ১৯৫০ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার নবাবগঞ্জের বক্সনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পারিবারিক ও প্রকৃত নাম আবদুল খায়ের জসিম উদ্দিন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশমাতৃকার টানে অস্ত্র হাতে তুলে নেন জসিম। তিনি ২ নম্বর সেক্টরে মেজর এটিএম হায়দারের নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন।

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে ‘দেবর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রূপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে জসিমের। শুরুতে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করলেও দর্শকের বিশেষ নজরে আসেন প্রয়াত নায়করাজ রাজ্জাক ও চিত্রনায়িকা কবরী জুটির সাড়া জাগানো ‘রংবাজ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে। সেখানে তাঁর খলচরিত্রের ব্যতিক্রমী অভিব্যক্তি দারুণ প্রশংসা কুড়ায়।

এরপর ১৯৭৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দেওয়ান নজরুলের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘দোস্ত দুশমন’-এ ‘গব্বার’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি চলচ্চিত্রে রীতিমতো ইতিহাস তৈরি করেন। বলিউডের বিশ্ববিখ্যাত ‘শোলে’ সিনেমার অফিসিয়াল রিমেক ছিল এটি। এই ছবিতে জসিমের অনবদ্য অভিনয় দেখে মূল ‘শোলে’ সিনেমার গব্বার চরিত্রে রূপদানকারী খোদ বলিউড অভিনেতা আমজাদ খান ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।

খলচরিত্রে দীর্ঘ সাফল্যের পর দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত ‘ওমর শরীফ’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রধান নায়ক হিসেবে দর্শকের সামনে আসেন জসিম। শুরুতে নাচ-গান ও ইতিবাচক কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় নিয়ে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত থাকলেও প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের বাঁধভাঙা আনন্দ ও করতালি দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি; একের পর এক সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন ঢাকাই সিনেমার অবিসংবাদিত ‘অ্যাকশন হিরো’।

তাঁর অভিনীত অসংখ্য দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘তুফান’, ‘জবাব’, ‘নাগ-নাগিনী’, ‘বারুদ’, ‘বদলা’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘লালু মাস্তান’, ‘নবাবজাদা’, ‘অভিযান’, ‘বাংলার নায়ক’, ‘স্বামী কেন আসামী’, ‘রাজা বাবু’, ‘টাইগার’, ‘ভাইবোন’, ‘লাল গোলাপ’ ও ‘গরিবের ওস্তাদ’ অন্যতম।

ব্যক্তিগত জীবনে সহশিল্পী চিত্রনায়িকা সুচরিতার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও সেই সংসার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূর্ণিমা সেনগুপ্তার কন্যা নাসরিনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের তিন পুত্রসন্তান—রাতুল, রাহুল ও সামি।

১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই মহাতারকা। তাঁর অনন্য অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) একটি ফ্লোরের নামকরণ করা হয়েছে ‘জসিম ফ্লোর’। প্রয়াণের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নিজ কর্ম ও অসাধারণ প্রতিভার কারণে কোটি সিনেমাপ্রেমীর হৃদয়ে নায়ক জসিম আজও চিরভাস্বর।

মন্তব্য করুন