সানবার্ন ও সানস্ক্রিন: ত্বকের সুরক্ষায় জরুরি কিছু তথ্য

সানবার্ন ও সানস্ক্রিন: ত্বকের সুরক্ষায় জরুরি কিছু তথ্য

ডা. মো. মোশাররফ হোসেন: তীব্র দাবদাহ আর কড়া রোদে ত্বকের ক্ষতি রোধে সানস্ক্রিন এখন অপরিহার্য। সূর্যকিরণের অতিবেগুনি রশ্মি (UV Ray) ত্বকের অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে। এই ক্ষতি থেকে বাঁচতে সানবার্ন ও সানস্ক্রিন সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।

অতিবেগুনি রশ্মি ও ত্বকের ক্ষতি

সূর্যকিরণে থাকা আলট্রাভায়োলেট ‘এ’ (UVA) এবং ‘বি’ (UVB) রশ্মি ত্বকের প্রধান শত্রু। এর ফলে ত্বক পুড়ে যাওয়া বা সানবার্ন, বলিরেখা পড়া, লালচে ভাব, ফোসকা পড়া এবং ত্বকের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। দিনের সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত সূর্যের তেজ সবচেয়ে বেশি থাকে, যা ত্বকের জন্য ৪ গুণ বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।

সানস্ক্রিন কী ও কেন?

সানস্ক্রিন মূলত দুই ধরনের হয়:

  • কেমিক্যাল সানস্ক্রিন: এটি অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে নেয়।

  • ফিজিক্যাল সানস্ক্রিন: এটি আয়নার মতো রশ্মিকে প্রতিফলিত করে ব্লক করে দেয়।

যেসব সানস্ক্রিন UVA এবং UVB—উভয় রশ্মি থেকেই সুরক্ষা দেয়, সেগুলোকে বলা হয় ‘ব্রড স্পেকট্রাম’ সানস্ক্রিন।

এসপিএফ (SPF) ও ব্যবহারের নিয়ম

এসপিএফ হলো সূর্যরশ্মি প্রতিরোধের ক্ষমতার মাপকাঠি। আমাদের উপমহাদেশের মানুষের ত্বকের ধরন অনুযায়ী এসপিএফ ৩০+ থেকে ৫০+ ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকর।

ব্যবহারের সঠিক উপায়:

  • রোদে বের হওয়ার অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে শরীরের উন্মুক্ত স্থানে সানস্ক্রিন লাগাতে হবে।

  • দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে বা বেশি ঘামলে প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পরপর পুনরায় ব্যবহার করা জরুরি।

  • ছাতা, টুপি এবং ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহারের পাশাপাশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে দ্বিগুণ সুরক্ষা পাওয়া যায়।

ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক সানস্ক্রিন বেছে নিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন