গাজায় ত্রাণের নতুন আশার আলো: ৪০ দিন পর খুলল জিকিম ক্রসিং

সরাসরি উত্তর গাজায় পৌঁছাবে খাদ্য ও ওষুধ; ইসরায়েলি বিধিনিষেধ নিয়ে এখনো উদ্বেগ রাষ্ট্রসংঘের

গাজায় ত্রাণের নতুন আশার আলো: ৪০ দিন পর খুলল জিকিম ক্রসিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ ৪০ দিন বন্ধ থাকার পর উত্তর গাজার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ‘জিকিম ক্রসিং’ পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাষ্ট্রসংঘ নিশ্চিত করেছে যে, এই পথটি খোলার ফলে এখন থেকে মানবিক সহায়তা সরাসরি উত্তর গাজায় প্রবেশ করতে পারবে।

রাষ্ট্রসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, "জিকিম ক্রসিং চালু হওয়ায় উত্তর গাজায় সরাসরি ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হবে। এর ফলে আমাদের আর দক্ষিণ গাজা থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ট্রাক নিয়ে আসতে হবে না, যা একটি অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছিল।"

তিনি জানান, গত সপ্তাহান্তেই সেখানে ত্রাণ খালাস করা হয়েছে এবং সোমবার থেকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) ও ইউনিসেফের (UNICEF) মাধ্যমে খাদ্য, পুষ্টি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে।

বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা: ক্রসিংটি খুলে দেওয়াকে ইতিবাচক মনে করলেও ডুজারিক বেশ কিছু ‘বড় প্রতিবন্ধকতার’ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তার মতে:

  • ইসরায়েলি কাস্টমসের কঠোর নিয়মাবলীর কারণে ত্রাণ সরবরাহে দেরি হচ্ছে।

  • পর্যাপ্ত সিকিউরিটি স্ক্যানিং ক্ষমতার অভাব রয়েছে।

  • নির্দিষ্ট কিছু রাষ্ট্রসংঘ সংস্থা ও এনজিওর ওপর ইসরায়েলের ‘পাইকারি নিষেধাজ্ঞা’ ত্রাণ তৎপরতাকে ব্যাহত করছে।

প্রেক্ষাপট: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর নিরাপত্তার অজুহাতে গাজার সবকটি ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছিল ইসরায়েল। পরবর্তীতে দক্ষিণের কেরেম শালম ও রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়া হলেও উত্তর গাজা ছিল প্রায় বিচ্ছিন্ন।

উল্লেখ্য, গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলায় গাজার জনপদ ও অবকাঠামো প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে ৭৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। এই পরিস্থিতিতে জিকিম ক্রসিং খুলে যাওয়াকে উত্তর গাজায় দুর্ভিক্ষ রোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন