সড়কের পাশে জারুল ও কৃষ্ণচূড়ায় রঙের উৎসব
হবিগঞ্জের মাধবপুরের সুরমা চা বাগান এলাকায় প্রকৃতি যেন মেতে উঠেছে এক অপরূপ রঙের উৎসবে। সবুজ চায়ের গালিচার বুক চিরে এঁকেবেঁকে চলে যাওয়া সড়কের দুই পাশে এখন শোভা পাচ্ছে জারুল, কৃষ্ণচূড়া ও সোনালু ফুল। গ্রীষ্মের এই চোখজুড়ানো নান্দনিক পরিবেশ উপভোগ করতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে শত শত দর্শনার্থী ও প্রকৃতিপ্রেমী ছুটে আসছেন সুরমা চা বাগান এলাকায়।
সরেজমিন সুরমা চা বাগান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের জগদীশপুর তেমুনিয়া থেকে শুরু করে সুরমা চা বাগান অংশজুড়ে সারি সারি জারুল গাছে ফুটে আছে বেগুনি রঙের ফুলের সমারোহ। এরই মাঝে কোথাও কৃষ্ণচূড়ার গাঢ় লাল আভা, আবার কোথাও সোনালু ফুলের উজ্জ্বল হলুদ রঙ চারপাশের প্রকৃতিকে করে তুলেছে আরও বেশি আকর্ষক ও মোহনীয়। মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা বাহারি ফুল আর সবুজ চা বাগানের মায়াবী পরিবেশ যাত্রী ও পর্যটকদের বিমোহিত করছে।
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ফুল বিছানো পথে ভিড় করছেন অগণিত ভ্রমণপিপাসু। কেউ পরিবার নিয়ে আসছেন, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে নান্দনিক এই মুহূর্তটি ফ্রেমে বন্দি করতে ছবি তোলায় ব্যস্ত। আবার অনেকে মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে কিছু সময়ের জন্য গাড়ি থামিয়ে প্রকৃতির এই অনাবিল সান্নিধ্যে ক্লান্তি জুড়াচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই সড়কের চোখজুড়ানো ছবি ও ভিডিও এখন বেশ ভাইরাল।
প্রতিবছর গ্রীষ্ম মৌসুমে এখানে জারুল ও কৃষ্ণচূড়া ফুটলেও এবার ফুলের পরিমাণ তুলনামূলক অনেক বেশি। ফলে মহাসড়কের সৌন্দর্য এবার ধরা দিয়েছে কয়েক গুণ বাড়িয়ে। বিশেষ করে বিকেলের নরম আলোয় ফুলে ঘেরা এই সড়ক এক স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি করে। বাগানের সড়কের দুই পাশে ফুলের এমন সমারোহে এক স্বপ্নিল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ এখানে ছবি তুলতে আসে, গাড়ি থামিয়ে ফুল দেখে। আগে কখনো একসঙ্গে এত ফুল ফুটতে দেখা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সড়কের কিছু চমৎকার ছবি দেখে সরাসরি উপভোগ করতে ছুটে এসেছি। বাস্তবে জায়গাটি আরও অনেক বেশি সুন্দর। গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় মনে হচ্ছে, বিদেশের কোনো রাজকীয় ফুলের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি।
মহাসড়কের এই নান্দনিক রূপ নিয়ে হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, ‘সড়ক বিভাগের বিশেষ উদ্যোগে আজ থেকে প্রায় ৪ বছর আগে জগদীশপুর তেমুনিয়া থেকে সুরমা চা বাগান হয়ে সাতছড়ি এলাকার সড়কের সৌন্দর্য বর্ধনে রাস্তার দুই ধারে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ লাগানো হয়েছিল। এখন গ্রীষ্মকাল আসতেই গাছগুলোতে নানা জাতের ফুল ফুটেছে, যা পরিবেশকে দৃষ্টিনন্দন করেছে। ভবিষ্যতে এই সড়কজুড়ে আরও বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ লাগানোর পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।’
প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, সুরমা চা বাগান এলাকার এই মহাসড়ক এখন আর শুধু যাতায়াত বা যোগাযোগের পথ নয়; এটি এখন প্রকৃতির এক জীবন্ত ও মনোমুগ্ধকর ক্যানভাসে পরিণত হয়েছে।
|