৭ নভেম্বরের বিপ্লব ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক প্রতিরোধ: রাশেদ খাঁন

প্রকাশ: শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৮ অপরাহ্ণ
৭ নভেম্বরের বিপ্লব ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক প্রতিরোধ: রাশেদ খাঁন
ঝিনাইদহে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক প্রতিরোধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

আজ শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’-এর বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খাঁন বলেন, "১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ছিল মূলত ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহি ও সাধারণ জনতার এক অদম্য ঐতিহাসিক প্রতিরোধ। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত আমাদের সহযোগিতা করলেও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ওপর বিভিন্ন উপায়ে আধিপত্য বিস্তারের আগ্রাসী চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু দেশের দেশপ্রেমিক জনগণ তা কখনোই মেনে নেয়নি।"

অতীতে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "একাত্তরের পরবর্তী সময় থেকে পঁচাত্তর পর্যন্ত এবং পরবর্তী সময়ে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পূর্ব পর্যন্ত দেশের রাজনীতিতে নানা গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডের কালো ইতিহাস রয়েছে। পঁচাত্তরের আগের সময়টাতে তৎকালীন সরকারের নেতৃত্বে ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর দমনপীড়ন চালানো হয়েছিল। একইভাবে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের আগে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের দোসররা দেশের মানুষের ওপর পৈশাচিক গণহত্যা ও গুম-খুনের রাজত্ব কায়েম করেছিল।"

দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর দেশের মানুষ আজ অত্যন্ত উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে ঐতিহাসিক ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালন করতে পারছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশজুড়ে মানুষের মাঝে আজ এক বাঁধভাঙা উল্লাস দেখা যাচ্ছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন আরও বলেন, "অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে যেমন বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের যুগান্তকারী পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল, তেমনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই মহাসংগ্রামে দেশের সকল রাজনৈতিক দল, মত এবং সর্বস্তরের জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এসে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।"

এর আগে সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, জেলা বিএনপির সহসভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টুসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।