দক্ষিণ কোরিয়ার ৭ জাহাজের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে ইরান

প্রকাশ: বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
দক্ষিণ কোরিয়ার ৭ জাহাজের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে ইরান

অনলাইন ডেস্কঃ বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। জলপথটি পরিচালনার জন্য নবগঠিত ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ ঘোষণা দিয়েছে যে, আগামী ১ নভেম্বর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সিনোকরের অন্তত সাতটি জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকেই হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে তেহরান। মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধের পাল্টা জবাব হিসেবে প্রণালিটিতে কড়াকড়ি আরোপ করায় ইতোমধ্যে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল সরবরাহ এবং এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে জ্বালানি পৌঁছানোর প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আজ বুধবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, গত তিন মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের নিয়ম সবচেয়ে বেশি ভেঙেছে সিনোকরের জাহাজগুলো। এর আগে গত আগস্টে প্রণালির নিয়ম ভাঙা ৪৫টি ট্যাংকারের একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল ইরান, যেখানে এই জাহাজগুলোর নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এদিকে ইরানের এই ঘোষণার পর দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজমালিকদের সংগঠন জানিয়েছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সংগঠনের দাবি, ইরানি গণমাধ্যমে যেসব জাহাজের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর সরাসরি মালিকানাধীন সিনোকর নয়; বরং জাহাজগুলো একটি বিদেশি তেল কোম্পানির কাছে ভাড়ায় দেওয়া ছিল এবং সেগুলোতে কোনো দক্ষিণ কোরিয়ান নাবিকও ছিলেন না। এমনকি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো পূর্ব সতর্কবার্তাও পাননি তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই কঠোর অবস্থানের মুখে উপসাগরীয় দেশগুলো জাহাজের অবস্থান শনাক্ত করার ব্যবস্থা (Tracker) বন্ধ রেখে ‘গোপন চলাচল’ বা সিক্রেট নেভিগেশন পদ্ধতিতে তেলবাহী ট্যাংকার পরিচালনা করছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে হরমুজ প্রণালির এই নতুন সংকট বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সকালবেলা / নুসরাত