২২ বছরে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২,৯৫৭ জন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ
২২ বছরে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২,৯৫৭ জন

অনলাইন ডেস্ক: দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানের সময় সংঘটিত তথাকথিত ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ বিগত ২২ বছরে প্রায় তিন হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ২০০৪ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদে এই মৃত্যুর সংখ্যা নথিভুক্ত করেছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) আসকের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মোট ২ হাজার ৯৫৭ জন নিহত হয়েছেন।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে পুলিশের পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে। এ সময়ে পুলিশের হাতে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৭১ জন, যা মোট নিহতের প্রায় ৪৬ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) অভিযানে, যা বর্তমানে 'স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন' (এসআরবি) নামে পরিচিত। এই বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ২০০ জন। এ ছাড়া পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে আরও ৬৯ জন প্রাণ হারান। সব মিলিয়ে কেবল পুলিশ ও র‍্যাব এবং তাদের পরিচালিত যৌথ অভিযানেই মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৪০ জনে।

আসকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের পর থেকে পুলিশ কিংবা র‍্যাবের অভিযানে 'ক্রসফায়ার' বা 'কথিত বন্দুকযুদ্ধে' কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য নতুন করে নথিভুক্ত হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে এসব বাহিনীর অধীনে রেকর্ড হওয়া মৃত্যুর তথ্যে এই বিরতিকে পরিসংখ্যানে একটি উল্লেখযোগ্য মোড় হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।

তবে আসক স্পষ্ট করেছে যে, পুলিশ বা র‍্যাবের হাতে মৃত্যুর তথ্য নতুন করে না থাকলেও অন্যান্য সংস্থার অভিযানে এটি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আসকের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে ১ জন, ২০২৫ সালে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ১ জন এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১ জন নিহত হয়েছেন।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া এসব ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে সব সময় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আসক জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।

সকালবেলা / নুসরাত