পাকিস্তানে রাজনৈতিক দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপপ্রয়োগের অভিযোগ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানে রাজনৈতিক দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপপ্রয়োগের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানে রাজনৈতিক বিরোধী, ভিন্ন মতাবলম্বী ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের (Anti-Terrorism Act) প্রয়োগ তীব্র আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ত্রাসবাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এই কঠোর আইনে অভিযুক্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের তালিকা আরও দীর্ঘ হলো।

মূলত ১৯৯৭ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাবসহ জনবহুল প্রদেশগুলোতে চরমপন্থী সম্প্রদায়গত ও জাতিগত সহিংসতা নিরসনে এবং দ্রুত বিচার কাজ সম্পন্ন করতে প্রচলিত আদালতের পাশাপাশি বিশেষ বিচার ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এই আইন চালু হয়। পরবর্তীতে ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানের পর সীমান্তে সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) উত্থান ঘটলে পরিস্থিতি সামলাতে এই আইনের পরিধি বহুগুণ বাড়ানো হয়।

তবে জঙ্গি দমনে প্রণীত আইনটি কালক্রমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। ১৯৯৯ সালে পারভেজ মোশাররফের সামরিক অভ্যুত্থানের পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ভাই নওয়াজ শরিফও ২০০০ সালে এই আইনে মামলার মুখে পড়েছিলেন। পুলিশি কার্যক্রম বিশ্লেষক জোহা ওয়াসিমের মতে, আইনে ‘সন্ত্রাসবাদ’-এর সংজ্ঞা অত্যন্ত বিস্তৃত ও অস্পষ্ট রাখা হয়েছে। একাধিক সংশোধনীর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসীম ক্ষমতা নিশ্চিত করায় এখন অপহরণ, অর্থ পাচার কিংবা নিষিদ্ধ সংগঠনকে সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের জন্যও সন্ত্রাসবাদের মামলা ঠুকে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

খাইবার পাখতুনখাওয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গ্রেপ্তারের পর রাষ্ট্রীয় বেতারকেন্দ্রে হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে সংকটময় ওই প্রদেশটিতে জরুরি শাসন চলছে।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিজেও একাধিক গুরুতর সন্ত্রাসবাদের মামলার মুখোমুখি। একই সাথে কাশ্মীরি, পশতুন ও বেলুচ অধিকারকর্মীদেরও এই আইনের আওতায় এনে দীর্ঘমেয়াদে কারারুদ্ধ রাখা হচ্ছে। সাবেক মন্ত্রী ও রাজনীতিক শিরিন মাজারির মেয়ে আইনজীবী ইমান মাজারি এবং তাঁর স্বামী হাদি আলী চট্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত সন্ত্রাসীদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও, নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন যখন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন বিচারব্যবস্থার ওপর জনমানুষের আস্থা ধসে পড়ে। আইনের এই অনিয়ন্ত্রিত অপপ্রয়োগ বন্ধ করা না গেলে তা পাকিস্তানের গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে।