১০ বছর নিষিদ্ধ থাকার পরও যেভাবে ভারতে পৌঁছাচ্ছে আতিফের গান

প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ণ
১০ বছর নিষিদ্ধ থাকার পরও যেভাবে ভারতে পৌঁছাচ্ছে আতিফের গান
ভারতীয় ভক্তদের প্রতি বিশেষ বার্তা দিলেন সংগীত তারকা আতিফ আসলাম

বিনোদন ডেস্ক: রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতে পাকিস্তানি শিল্পীদের কাজের ওপর সরকারি বিধিনিষেধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর কেটে গেছে প্রায় এক দশক। এই দীর্ঘ সময়ে আর ভারতীয় সংগীতাঙ্গন কিংবা বলিউডের কোনো প্রজেক্টে যুক্ত হতে পারেননি পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীত তারকা আতিফ আসলাম।

তবে ভূরাজনৈতিক সীমানা ও আইনি দূরত্ব তৈরি হলেও ভারতীয় শ্রোতা ও অনুরাগীদের সঙ্গে তাঁর গভীর আত্মিক সম্পর্ক যে সামান্যতম ফিকে হয়নি, তা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন এই শিল্পী নিজেই।

সঞ্চালক ক্রিস ফেডের সঙ্গে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আতিফ আসলাম ভারতে নিষিদ্ধ হওয়া, পেশাগত ক্ষতি, ভক্তদের অবিরত ভালোবাসা এবং নিজের সংগীত জীবনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।

ভারতে দীর্ঘ অনুপস্থিতির কথা স্মরণ করে আতিফ বলেন, “ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের নিষিদ্ধ করার প্রায় ১০ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এটি সম্পূর্ণ ভারতের নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানেও ভারতীয় শিল্পীদের কাজের ওপর একই ধরনের বিধিনিষেধ আনা হয়।”

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতির জেরে গুরগাঁওয়ে আতিফের একটি নির্ধারিত কনসার্ট বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে ‘ইন্ডিয়ান মোশন পিকচার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন’ পাকিস্তানি শিল্পীদের নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর ভারতীয় বিনোদন জগতে সেই নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোরভাবে কার্যকর হয়।

ভারতে কোনো নতুন অ্যালবাম বা প্লেব্যাক মুক্তি না পাওয়া সত্ত্বেও কীভাবে ভক্তরা তাঁর গান শুনছেন, সে প্রসঙ্গে আতিফ বলেন, “দীর্ঘ ১০ বছর আমি ভারতে কোনো অফিশিয়াল কাজ করিনি। তবে জানতে পেরেছি আমার অনুরাগী ভক্তরা ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করে অ্যাপে গান শুনছেন। অনেকেই আবার সিডি ও ড্রাইভ বানিয়ে পরস্পরের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। যদিও আমি পাইরেসি সমর্থন করি না, তবে ভালোবাসার ক্ষেত্রে সুর যেখানে পৌঁছানোর, হাজার বাধার মধ্যেও ঠিক পৌঁছে যায়।”

তিনি ভারতীয় অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তা দিয়ে বলেন, “তোমরা মন খারাপ কোরো না। আমি সবসময়ই বলতে চেয়েছি—আমি তোমাদের ভীষণ মিস করি। ভারতের বাজারে কাজ করাকে হয়তো মিস করি না, কিন্তু তোমাদের ভালোবাসাকে মিস করি। আর তোমরা যদি সত্যি আমার গান ভালোবাসো, তবে জানো আমাকে কোথায় খুঁজে পেতে হবে। আমার গান ঠিকই তোমাদের কান পর্যন্ত পৌঁছাবে।”

তবে দীর্ঘ এই নিষেধাজ্ঞাকে স্রেফ নেতিবাচক বা ক্যারিয়ারের ক্ষতি হিসেবে দেখতে নারাজ আতিফ। তাঁর মতে, বলিউডের প্লেব্যাকের বাঁধাধরা ছক থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীনতা পাওয়ায় তিনি নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কারের সুযোগ পেয়েছেন। যেসব কারণে তাঁকে নিষিদ্ধ হতে হয়েছে, তাদের প্রতিও উল্টো কৃতজ্ঞতা জানান আতিফ, কারণ এই বিরতিই তাঁকে স্বাধীনভাবে নিজের মূল ধারার সংগীত তৈরিতে পথ দেখিয়েছে।

প্রসঙ্গতঃ, ২০০৫ সালে ‘জেহের’ সিনেমার ‘ওহ লামহে’ দিয়ে বলিউডে পা রাখা আতিফ আসলাম একে একে উপহার দিয়েছেন ‘তেরে হোনে লাগা হুঁ’, ‘পেহলি নাজার মে’, ‘তু জানে না’, ‘জিনা জিনা’ ও ‘দিল দিয়া গাল্লাঁ’-র মতো কালজয়ী সব হিট গান। ২০১১ সালে ‘বোল’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করা এই শিল্পী ২০০৮ সালে পান পাকিস্তানের অন্যতম সম্মানজনক বেসামরিক খেতাব ‘তমঘা-ই-ইমতিয়াজ’।

মন্তব্য করুন