বন্ধুর সঙ্গে বিরোধে লাথি, পরবর্তীতে ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা

প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৯ অপরাহ্ণ
বন্ধুর সঙ্গে বিরোধে লাথি, পরবর্তীতে ওড়না পেঁচিয়ে  হত্যা
বীনগরে আতিকুর হত্যা মামলায় পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তরুণ সেলুনকর্মী আতিকুর রহমান (১৯) হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর ও জটপাকানো রহস্য অবশেষে উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পূর্ববিরোধের জেরে আতিকুরকে প্রথমে স্বজোরে লাথি মেরে অচেতন করা হয় এবং পরবর্তীতে পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে পুকুরে গাছের শিকড়ের সঙ্গে বেঁধে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় প্রধান আসামি সাগর (২০) এবং পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির তদন্তে উঠে আসা সাদ্দাম (৩৬) ও বোরহান (২২) নামে তিন ঘাতককে সফল অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ বুধবার (১২ আগস্ট) গভীর রাতে আখাউড়া উপজেলার খরমপুর কেল্লা শাহ মাজার এলাকা থেকে প্রথমে সাগরকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে সাগরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ভাদুঘর এলাকায় অবস্থিত পিবিআই কার্যালয়ের সামনে থেকে অপর দুই সহযোগী সাদ্দাম ও বোরহানকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই সূত্র জানায়, নিহত আতিকুর রহমান পেশায় একজন সেলুনকর্মী ছিলেন। গ্রেপ্তার আসামিদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। গত ২৯ মার্চ রাত সাড়ে আটটার দিকে আসামি সাগর তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। রাত সাড়ে ১২টা ও রাত ১টা ৩ মিনিটে আতিকুর মুঠোফোনে তার মাকে জানান যে তিনি স্থানীয় ঈদগাহে আছেন এবং আধা ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি ফিরবেন। তবে এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি চিরতরে বন্ধ পাওয়া যায়।

পরদিন ১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের একটি পুকুর থেকে আতিকুরের বস্তাবন্দি ভাসমান লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। উক্ত ঘটনায় নিহতের মা তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে নবীনগর থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই জানায়, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করে, ঘটনার রাতে আতিক ও সাগরসহ সবাই বোরহানের ঘরে বসে মাদক সেবন ও লুডু খেলছিলেন। একপর্যায়ে পূর্ববিরোধ তুলে ধরে আতিকের সঙ্গে বোরহানের উত্যক্তমূলক তর্কাতর্কি শুরু হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বোরহান আতিকের অণ্ডকোষে সজোরে লাথি মারলে আতিক জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন।

এরপর আসামি সাদ্দামের নির্দেশে অচেতন আতিককে পাশের এক পরিত্যক্ত ঘরে নেওয়া হয়। সাদ্দাম একটি কালো ওড়না এনে আতিকের গলায় পেঁচিয়ে ধরে এবং বাকিদের চাপ দিয়ে ধরতে বলে। দুলাল আতিকের দুই পা, ইমন দুই হাত এবং বোরহান বুকের ওপর চেপে বসলে সাদ্দাম শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে।

হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর অপরাধ ঢাকতে প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে বস্তা এনে লাশ ঢুকিয়ে সাগরের মাথায় করে পুকুরে নিয়ে যাওয়া হয়। লাশ যেন ভেসে না ওঠে সেজন্য গাছের গভীরে থাকা শিকড়ের সঙ্গে বস্তাটি বেঁধে রাখা হয় এবং আতিকের জুতো পাশের এক বাঁশঝাড়ে লুকিয়ে ফেলে তারা।

পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইউনিটের পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অপর পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আলামত উদ্ধারে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন