হামলার পর মিত্রদের কড়া বার্তা দিল ইরাক: মুক্তাদা আল-সদর

প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩১ অপরাহ্ণ
হামলার পর মিত্রদের কড়া বার্তা দিল ইরাক: মুক্তাদা আল-সদর
ইরাকের প্রভাবশালী শিয়া ধর্মীয় নেতা মুক্তাদা আল-সদর। (ছবি: রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরাকের অভ্যন্তরে সশস্ত্র মিলিশিয়াদের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সমন্বিত রক্তক্ষয়ী যৌথ বিমান হামলার পর এবার নিজস্ব শিয়া মিত্রদের প্রতি নজিরবিহীন ও অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী শিয়া ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা মুক্তাদা আল-সদর।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং তাদের অনুসারী প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, ইরাকের সার্বভৌম ভূখণ্ডকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে কোনো পরাশক্তি বা প্রতিবেশী দেশের ওপর হামলা চালানো যাবে না। একই সাথে তিনি জোর দিয়ে সতর্ক করে দেন, চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা ইরাককে নতুন করে কোনো ‘অর্থহীন ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে’ টেনে নেওয়া একেবারেই অনুচিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক জুরুরি ও দীর্ঘ বিবৃতিতে মুক্তাদা আল-সদর সরাসরি বলেন, "আইআরজিসির মতো বাহিনীগুলোর ইরাকের রাজনৈতিক ও সামরিক ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ দূরে অবস্থান করা উচিত। একইভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বেপরোয়া মিলিশিয়াদের এমন কোনো হটকারী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না, যা দেখে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলো আমাদের পবিত্র ভূমিকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর ন্যূনতম অজুহাত খুঁজে পায়।"

সব আঞ্চলিক ও স্থানীয় পক্ষকে তথাকথিত ‘জায়নবাদী-আমেরিকান চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের’ ফাঁদে না পড়ার কড়া নির্দেশ দিয়ে সদর বলেন, "ভাইকে আবার ভাইয়ের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে নামানোর এই উসকানিমূলক ঘৃণ্য চেষ্টায় যেন কেউ পা না দেয়।"

ইরাকের স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব বারবার ক্ষুণ্ণ হওয়ার কড়া নিন্দা জানিয়ে তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, কতিপয় শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠী দেশটিকে নতুন করে এক অপ্রয়োজনীয় সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এ অবস্থায় ইরাকি কেন্দ্রীয় সরকারকে নিজস্ব পূর্ণ সামরিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সুবিধাবাদী এবং ‘ঘুমন্ত সন্ত্রাসী চক্র’ যেন এই সাম্প্রদায়িক টানাপোড়েনকে কাজে লাগিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে।

ইরাকের দীর্ঘ যুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করে তিনি আবেগঘনভাবে যোগ করেন, "বহু বছর ধরে চলা ধারাবাহিক সংঘাত ও রক্তক্ষয় আমাদের জাতীয় সম্পদ, সম্মান ও আত্মমর্যাদাকে নিঃশেষ করে দিয়েছে। এই মুহূর্তে ইরাক ও এর সাধারণ জনগণের একমাত্র পরম প্রয়োজন হচ্ছে স্থায়িত্ব ও শান্তি।"

একই সাথে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আন্তরিক শান্তি ও জাতীয় পুনর্মিলনের আহ্বান জানিয়ে মুক্তাদা আল-সদর বলেন, তিনি এমন এক নতুন ও সার্বভৌম মধ্যপ্রাচ্যের স্বপ্ন দেখেন—যেখানে বিদেশি কোনো সামরিক ঘাঁটি থাকবে না, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিদের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বাধ্যবাধকতা থাকবে না এবং কোনো ধরনের ঔপনিবেশিক আধিপত্যের অস্তিত্ব মিলবে না।

উল্লেখ্য, এর আগে ইরাকে ক্রিয়াশীল ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে বাগদাদ, বসরা ও কারবালাসহ মোট ৭টি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে ব্যাপক বিমান হামলা পরিচালনা করে। ওই হামলায় অন্তত ২০ জন সামরিক যোদ্ধা নিহত এবং আরো অন্তত ৩২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

মন্তব্য করুন