হাসপাতালে দালালচক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৯ অপরাহ্ণ
হাসপাতালে দালালচক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। (ছবি: সংগৃহীত)
জাতীয় ডেস্ক: সরকারি হাসপাতালগুলো থেকে দরিদ্র ও সাধারণ রোগীদের ভাগিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার যে দালালচক্র ও সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, তাদের অপতৎপরতা চিরতরে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।আজ বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেন্ট রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট যৌথভাবে দেশের আটটি বিভাগের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ওপর এই গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এবং এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক।অনুষ্ঠানে সরকারি হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "সরকারি হাসপাতালে নিজের দায়িত্ব অবহেলা করে পাশের ক্লিনিকে কাজ করা, সরকারি সার্জারি ফেলে সেখানে অপারেশন চালানো, কমিশন খাওয়া আর রোগী এলে বাইরের ক্লিনিকে টেস্ট করতে বাধ্য করা—এসব অনৈতিক বাণিজ্য আর চলতে দেওয়া হবে না। আমাদের বিশেষ টিম এখন থেকে এসব বিষয়ে কঠোর মনিটরিং করবে।"

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার কেনাকাটার দুর্নীতি ও অপচয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, "টেন্ডারে সিন্ডিকেট তৈরি করতে অবাস্তব শর্ত জুড়ে দেওয়া হতো। ফরিদপুর ও খুলনায় ১১ কোটি টাকার রেডিওথেরাপি মেশিন ১৮ কোটি টাকায় দুটি কেনা হয়েছিল, অথচ বসানোর জায়গায় কোনো রেডি সেটআপই ছিল না। কেবল ৪ থেকে ৬ কোটি টাকা অনৈতিক লাভের জন্য এগুলো কিনে ফেলে রাখা হয়েছে, যা পরবর্তীতে ভাঙারির কাছে বিক্রি করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।"টিকাদান কর্মসূচি ও স্বাস্থ্য খাতের নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী জানান, গত চার বছরে হামের টিকা না কেনায় যে সংকট দেখা দিয়েছিল, বর্তমান সরকার তা কাটিয়ে উঠতে কাজ করছে এবং ১ লাখের বেশি নতুন শিশুকে টিকার আওতায় এনেছে। এ ছাড়া বিদেশি কোম্পানির হাতে জিম্মি থাকা ডায়ালাইসিস খাতের চুক্তির মেয়াদ আগামী নভেম্বরে শেষ হলে তা আর নবায়ন না করে সরকারের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি জেলা ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অত্যন্ত সাশ্রয়ী খরচে ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালু করা হবে।স্বাস্থ্যকর্মী ও ডাক্তারদের ডিজিটাল সেবা জোরদারে আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে স্মার্টফোন, সাইকেল এবং এআই-সমৃদ্ধ ‘কিট বক্স’ প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি। এর মাধ্যমে ঘরে ঘরে গিয়ে উচ্চতা, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও রক্তের সিবিসি টেস্ট করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রণালয়ের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের অডিটের নামে এক টাকাও অসাধু উপায়ে ঘুষ দেবেন না। আপনি সৎ থাকলে অডিটে অনৈতিক টাকা চাইলেই সরাসরি আমার কাছে আসুন। পরিস্থিতি যা-ই হোক, আমি নিজে তা মোকাবিলা করব।"একই সাথে সিজারিয়ান অপারেশনের নামে গর্ভবতী নারীদের ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া বন্ধে জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে আকস্মিক সারপ্রাইজ ভিজিট অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তারা।

মন্তব্য করুন