ফুটবলের উন্নয়নে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সহায়তা চাইলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের ফুটবলের সামগ্রিক মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত বিকাশ ও খেলোয়াড়দের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার আন্তরিক সহযোগিতা চেয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর গুলশান ইয়ুথ ক্লাবে আয়োজিত এক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা ও ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দোর কাছে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুরোধ ও সহায়তা কামনা করেন।
অ্যাভিয়েশন ও পর্যটন খাতের সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন ‘অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ’ (এটিজেএফবি) কর্তৃক আয়োজিত এয়ারলাইনস ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ভীষণ ফুটবলপ্রেমী। বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকার দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে এ দেশের আপামর মানুষের যে অবর্ণনীয় আবেগ, ভালোবাসা ও অভূতপূর্ব উন্মাদনা রয়েছে, তা আজ বিশ্বজুড়েই সমাদৃত ও পরিচিত। ফুটবলকে ঘিরে সাধারণ মানুষের সেই খাঁটি ভালোবাসাকে ধারণ করেই এ ধরনের ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন দেশের ফুটবলকে আরো বহুদূর এগিয়ে নিতে দারুণ ভূমিকা রাখবে।’
আমিনুল হক আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের ফুটবল তথা সার্বিক ক্রীড়াঙ্গনের আধুনিকায়নে “স্পোর্টস ডিপ্লোমেসি” বা ক্রীড়া কূটনীতির ওপর বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলাদেশও একদিন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মতো উঁচুমাপের ফুটবল খেলবে। একদিন বাংলাদেশের ফুটবলও এমন এক আন্তর্জাতিক অবস্থানে পৌঁছাবে, যখন দেশের মানুষ নিজেদের জাতীয় দলকে নিয়েও ঠিক একই রকম আবেগ, বুকভরা গর্ব ও উন্মাদনায় মেতে উঠবে।’ খেলাধুলার প্রসারে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এমন উদ্যোগ আরও বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী জানান, ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা যায় কি না, সরকারের পক্ষ থেকে সেই আন্তরিক চেষ্টা চালানো হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো বলেন, ‘ব্রাজিলিয়ানদের কাছে ফুটবল শুধু কোনো মাঠের তীব্র প্রতিযোগিতা নয়, এটি মূলত পরম আনন্দ ও উৎসবের প্রতীক। খেলায় জয় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে খেলাটিকে মন থেকে উপভোগ করাই সবচেয়ে বড় বিষয়।’ বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রতি শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে ফার্নান্দো বলেন, ‘প্রিয় দলকে সমর্থন করুন, আনন্দ করুন, তবে সবকিছু যেন শান্তিপূর্ণ থাকে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও স্লেজিং হবে শুধু মাঠের ভেতরে, মাঠের বাইরে কোনোভাবেই নয়।’
অন্যদিকে, বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘ফুটবল এমন একটি জাদুকরী খেলা যা বিভিন্ন দেশ, ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাষার মানুষকে এক সুতোয় বেঁধে দেয়। বাংলাদেশ, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল—সব দেশের মানুষের মধ্যেই এই খেলাটি আজ অনন্য এক বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।’ বাংলাদেশের ফুটবল আরও এগিয়ে যাক এবং এ দেশের তরুণ ফুটবলাররা যেন বিশ্বমঞ্চে নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে—সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, জমকালো এই টুর্নামেন্টের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এনভয়-শেলটেক এভিয়েশন এবং পাওয়ার্ড বাই ভিআইপি মোটরস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, ‘এই টুর্নামেন্ট শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি দেশের সামগ্রিক অ্যাভিয়েশন খাতের দেশি-বিদেশি অংশীদারদের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক অ্যাভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নেও ভূমিকা রাখবে।’
এটিজেএফবি-এর সভাপতি তানজিম আনোয়ার এবং টুর্নামেন্ট ডিরেক্টর মো. আদনান রহমান জানান, দেশের অ্যাভিয়েশন খাতের সম্প্রীতি ও নেটওয়ার্কিং জোরদার করার এই আয়োজনে এবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার, এয়ার অ্যাস্ট্রা, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, সৌদিয়া, টার্কিশ এয়ারলাইনসসহ মোট ১৬টি খ্যাতনামা দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনস দল অংশ নিয়েছে।
|