গোপালপুরে ভাতিজা হত্যা মামলায় চাচার মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ণ
গোপালপুরে ভাতিজা হত্যা মামলায় চাচার মৃত্যুদণ্ড
আপন চাচা যখন খুনি!

সুমন ঘোষ, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মুক্তিপণের জন্য আপন ভাতিজাকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে চাচা মো. নুরনবীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অপহরণের দায়ে তাকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং মরদেহ গুম করার অপরাধে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াস এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত নুরনবী গোপালপুর উপজেলার নবধূলটিয়া গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

আদালত ও মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর গোপালপুর উপজেলার নাসির উদ্দিনের নাতি কেএম রাহেনুল ইসলাম আরাফকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে কয়েকজন সহযোগীর সহায়তায় অপহরণ করেন তার আপন চাচা নুরনবী। অপহরণের পর মুক্তিপণ না পেয়ে শিশুটিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার তিন দিন পর, ১১ অক্টোবর আরাফের দাদা নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে গোপালপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত চলাকালীন পরদিন, অর্থাৎ ১২ অক্টোবর গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকা থেকে নিখোঁজ শিশু আরাফের নিথর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে নিবিড় তদন্তে অপহরণ, নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং লাশ গুমের ঘটনায় চাচা নুরনবীর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমরাও খান দিপু একটি গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৭ মে গোপালপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন ভূঞা আদালতে আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আসামি নুরনবীর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই কঠোর রায় প্রদান করেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত হত্যার দায়ে নুরনবীকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। এর পাশাপাশি অপহরণ ও মরদেহ গুম করার পৃথক দুটি অপরাধেও তাকে সাজা ও অর্থদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে একটি বহুল আলোচিত ও নির্মম শিশু হত্যা মামলার দ্রুত বিচার সম্পন্ন হলো, যার ফলে ভুক্তভোগী পরিবারটি অবশেষে কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পেল।

মন্তব্য করুন