লবণ কারখানায় বিস্ফোরণে দগ্ধ দুই শ্রমিকের মৃত্যু

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৯ অপরাহ্ণ
লবণ কারখানায় বিস্ফোরণে দগ্ধ দুই শ্রমিকের মৃত্যু

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার একটি লবণ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ দুই শ্রমিক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁরা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ঘটনায় আইসিইউতে থাকা আরও তিন শ্রমিকের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নিহতরা হলেন—বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে দিদারুল আলম (৩২) এবং পটিয়া উপজেলার হুলাইন গ্রামের মোহাম্মদ নুরুল আলম (৪৫)। চমেক হাসপাতালের চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, দিদারুল আলমের শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং নুরুল আলমের প্রায় ৬৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। আজ শুক্রবার সকাল ১১টায় নিজ নিজ এলাকায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বোয়ালখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় অবস্থিত ‘কনফিডেন্স লবণ কারখানায়’ এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কারখানার অন্তত ১১ জন শ্রমিক দগ্ধ হন। ঘটনার পরপরই তাঁদের মধ্যে ১০ জনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও বাকি আটজন হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক জানান, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন দগ্ধ শ্রমিকদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেলেই তাঁদের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। বর্তমানে আইসিইউতে থাকা অপর তিনজনের অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

এদিকে, এই অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনাটি ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়নি এবং তা গোপন রাখা হয়েছিল বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কারখানায় আগুন লাগার বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসের কাউকে জানানো হয়নি, পুরো ঘটনাটি গোপন রাখা হয়। আমাদের টিম পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তেমন কিছু পায়নি। পরে আমরা জানতে পারি যে, দগ্ধ হয়ে ১০ জন শ্রমিক চমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।"

ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং আগুনের উৎস অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন