মোরেলগঞ্জে ৩০ বিঘা জমিতে সরিষা ফুল: কৃষকের রঙিন স্বপ্ন

মোরেলগঞ্জে ৩০ বিঘা জমিতে সরিষা ফুল: কৃষকের রঙিন স্বপ্ন

মো. আমিনুল ইসলাম, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একসময়ের পতিত জমিতে এখন হলুদের সমারোহ। উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়নের উত্তর কুমারিয়াঝোলা গ্রামে গত বছর মাত্র ৩ বিঘা দিয়ে শুরু হলেও চলতি মৌসুমে ৩০ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন কৃষকরা। সরিষার বাম্পার ফলনে অধিক লাভের রঙিন স্বপ্ন বুনছেন স্থানীয় ৩৫ জন চাষি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে সরিষা ফুলের মনমাতানো ঘ্রাণ ও মৌমাছির গুঞ্জন। আমন ধান কাটার পর যেসব জমি পতিত পড়ে থাকত, সেখানেই এখন বারি-১৪, ১৮, ২০ এবং বিনা সরিষা-৯ ও ১১ জাতের সরিষা শোভা পাচ্ছে। কৃষকরা জানান, বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় ৫ মণ সরিষা ঘরে তোলার আশা করছেন তারা, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা (মণ প্রতি)।

কৃষাণী শ্যামলী রানী হালদার ১ বিঘা এবং অনিক তরফদার ৩ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। এছাড়া প্রদেশ মাঝি ৪ বিঘা এবং নিত্যানন্দ ৫ বিঘা জমিতে চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন। মাঠজুড়ে হলুদের এই অপরূপ দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন সকাল-বিকালে ভিড় জমাচ্ছেন প্রতিবেশী গ্রামের মানুষও।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর মোরেলগঞ্জে ১০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১০ হেক্টর বেশি। বিশেষ করে বলইবুনিয়া, পঞ্চকরণ, নিশানবাড়িয়া, দৈবজ্ঞহাটী ও বনগ্রাম এলাকায় আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

পঞ্চকরণ ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দীপঙ্কর সমাদ্দার জানান, "গত বছর মাত্র ৩ বিঘা দিয়ে শুরু হলেও কৃষি অফিসের পরামর্শ ও প্রণোদনার মাধ্যমে এবার ২০ জন কৃষককে বিনা-১১, ১৪ ও ১৮ জাতের বীজ দিয়ে ৩০ বিঘা জমিতে আবাদ করানো হয়েছে।"

মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "কৃষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সঠিক সময়ে পরামর্শ দেওয়ার ফলে এই সফলতা এসেছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকির কারণেই তেল জাতীয় ফসলের আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।"

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন