টেকনাফের পাহাড়ে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান
কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্রের গোপন আস্তানা ও নির্যাতন সেল পুরোপুরি নির্মূল করতে আবারও সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী। পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য পাওয়ার পর সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের সরাসরি নেতৃত্বে এই অভিযান শুরু হয়েছে।
আজ শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ও রঙ্গীখালীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের দেড় শতাধিক সদস্য অংশ নিয়েছেন।
এর আগে গত শুক্রবার টেকনাফ পাহাড়ের বিভিন্ন গোপন বন্দিশালা থেকে মোট ৫৭ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে পুলিশ, যাদের মধ্যে ৬ জন রোহিঙ্গা এবং ৫১ জন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। উদ্ধারকৃতদের টেকনাফ মডেল থানায় এনে তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
পাহাড়ে মরদেহ পাওয়ার গুঞ্জনের বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, রঙ্গীখালীর পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য পুলিশের কাছে এসেছে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার ও শনাক্ত না করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিবিড়ভাবে অনুসন্ধানে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, পাহাড়ের ভেতরে দুই পক্ষের গোলাগুলির শব্দ এবং বন্দিশালার কাছাকাছি তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন তিনি। তবে মরদেহগুলো কোনো পাচারকারী চক্রের সদস্যের নাকি বন্দিদশা থেকে পালানোর সময় নিহত ভুক্তভোগীর, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা যায়নি।
আরেক ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান জানান, ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে কক্সবাজারে ডেকে এনে একটি গোপন পাহাড়ি আস্তানায় টানা আট দিন জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। ওই আস্তানায় ৫০ জনেরও বেশি মানুষকে আটকে রেখে সাগরপথে পাচারের প্রস্তুতি চলছিল। সশস্ত্র পাহারা ও বন্দিশালায় চরম নির্যাতনের মুখে বাইরের দুনিয়ার সাথে যোগাযোগের কোনো সুযোগ ছিল না বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টেকনাফের এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকা দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী মানবপাচারকারী চক্রের নিরাপদ আস্তানা ও বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চাকরি বা বিদেশযাত্রার লোভ দেখিয়ে নিরীহ লোকজনকে এখানে এনে আটকে রেখে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় কিংবা সাগরপথে অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা চালায় চক্রটি। পাহাড়ে নতুন করে অস্ত্রধারী অপরাধীদের তৎপরতা ও মরদেহ উদ্ধারের গুঞ্জনে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। অপরাধীদের সম্পূর্ণ নির্মূল করতে এই অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।