জামালগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় তালাবদ্ধ
খন্দকার শহীদুল ইসলাম, জামালগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর ‘উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়’ দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। নিয়মিত অফিস চলাকালীন সময়েও কার্যালয়টি তালাবদ্ধ থাকায় সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত নারী ও সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা।
উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের ঠিক সামনেই এই দপ্তরের অবস্থান। অথচ প্রশাসনের চোখের সামনেই মাসের পর মাস ধরে এই সরকারি অফিসটি অচল হয়ে পড়ে আছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কার্যালয়ের প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা। অফিসের নামফলকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে মো. আফজাল হোসেনের নাম লেখা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে অফিসে দেখা যায় না। অন্যদিকে, অফিস সহকারী মো. মোজাম্মেল হকেরও কোনো খোঁজ নেই। দরজার পাশে অফিস সহকারীর মোবাইল নম্বর টানানো থাকলেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সেই নম্বরে ফোন করলে কেউ ধরেন না, মাঝে মাঝে ধরলেও কথা না বলে কেটে দেন। স্থানীয়দের দাবি, অফিস সহকারী দিনের বেলা অনুপস্থিত থাকলেও মাঝেমধ্যে রাতের বেলা এসে অফিস খুলে কিছুক্ষণ পর আবার চলে যান।
দিনের পর দিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এমন অনুপস্থিতির কারণে নারী উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সরকারি ভাতা এবং আইনি সহায়তার মতো জরুরি সেবা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সদর ইউনিয়নের নয়াহালট গ্রামের আরিফ মিয়া, জামালগঞ্জ নতুনপাড়ার জয়নব খাতুন এবং বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাফছা আক্তারসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বারবার এসেও তাঁরা কাউকে পাননি।
এই নজিরবিহীন অব্যবস্থাপনার বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এজেএম রেজাউল আলম বিন আনছার বলেন, “জামালগঞ্জ মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন ও অফিস সহকারী মোজাম্মেলের কার্যক্রম খুবই খারাপ। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই, এটি মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা তা প্রধান কার্যালয়ে পাঠাব। শুধু জামালগঞ্জ নয়, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুরেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে।”
অন্যদিকে, নাকের ডগায় সরকারি অফিস বন্ধ থাকার বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদক বলেন, “বিষয়টি আমি দেখছি, আগামীকালই সংশ্লিষ্টদের ডেকে এই ব্যাপারে জবাবদিহি চাওয়া হবে।”
সরকারি অফিসে এমন চরম অবহেলা ও জনসেবা ব্যাহত করার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এআইএল/সকালবেলা
|