বাগেরহাটে জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত করল জেলা জামায়াত

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৯ অপরাহ্ণ
বাগেরহাটে জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত করল জেলা জামায়াত

মাসুম বিল্লাহ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া বাগেরহাটের ৫ জন বীর শহীদের কবর জিয়ারত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাগেরহাট জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে ভোরবেলা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিমের নেতৃত্বে পৃথক প্রতিনিধি দল এই জিয়ারত কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

ভোরে বাগেরহাট সদর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের বুলবুল কবিরের পুত্র শহীদ আলিফ আহমেদ সিয়ামের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর জেলা আমিরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি সদর উপজেলার গোপালকাটি গ্রামের মৃত কালাম মোল্লার পুত্র শহীদ আলমগীর মোল্লার কবর জিয়ারত করে।

এ সময় জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোস্তাইন বিল্লাহ, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক রেজাউল করিম, মো. তাজমুল হোসেন, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ফেরদৌস আলী ও সেক্রেটারি মাওলানা লিয়াকত আলী উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া চিতলমারী ও মোল্লারহাট উপজেলার শহীদদের কবর জিয়ারতে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা ও খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান খান এমপি। তাঁর সাথে জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহিদুল আলম, চিতলমারী উপজেলা আমির মাওলানা মনিরুজ্জামান ও মোল্লারহাট উপজেলা আমির হাসমত আলী অংশ নেন।

মোড়েলগঞ্জের শহীদ মাহফুজের কবর জিয়ারতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম এমপি। তাঁর সাথে খুলনা মহানগরী জামায়াত নেতা অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলা আমির মাওলানা শাহাদাত হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। নেতৃবৃন্দ শহীদদের পরকালীন শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন এবং তাঁদের পরিবারের খোঁজখবর নেন।

প্রতিবেদনে এই ৫ বীর শহীদের শাহাদাত বরণের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরা হলো: বাগেরহাটের চিতলমারী শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র সাব্বির আন্দোলনে অংশ নিতে ঢাকার টঙ্গীতে বোনের বাসায় যান। গত ১৯ জুলাই ২০২৪ সন্ধ্যা ৬টায় উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে আন্দোলনের মিছিলের একদম সামনে থাকা অবস্থায় মাথায় ২টি ও বুকে ৩টি গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মোল্লারহাটের বুড়িগাংনী গ্রামের বিপ্লব শেখ ঢাকার এক পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯ জুলাই ২০২৪ সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে মিছিলে অংশ নেন। সেখানে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সাথে সংঘর্ষে পুলিশের গুলি তাঁর মাথায় ও পিঠে বিদ্ধ হলে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। মিরপুর ১১-এর আলহাজ আব্বাস উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল মাহফুজুর। ১৯ জুলাই ২০২৪ সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুর ১০-এ পুলিশের নির্বিচার গুলিতে সে ঘটনাস্থলেই শহীদ হয়। সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল সিয়াম। ৫ আগস্ট ২০২৪ গণভবন অভিমুখে ছাত্র-জনতার মিছিলে যোগ দিলে দুপুরের দিকে সাভারে তাঁর মাথায় গুলি লাগে। সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট সিয়াম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ৫ আগস্ট ২০২৪ ছাত্র-জনতার চূড়ান্ত বিজয়ের দিন ঢাকার বাড্ডায় আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন আলমগীর মোল্লা।

পরবর্তীতে এই ৫ জন বীর শহীদের মরদেহ বাগেরহাটের নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন