যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছে রাশিয়া: জেলেনস্কি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ০৪:৩১ অপরাহ্ণ
যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছে রাশিয়া: জেলেনস্কি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল সম্পূর্ণ দখলের জন্য গত চার বছরেরও বেশি সময়ে ক্রেমলিন অন্তত ১৫ বার সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, কিন্তু প্রতিবারই তারা ব্যর্থ হয়ে তা পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।

গতকাল সোমবার (২৯ জুন) রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি এই মন্তব্য করেন। এর মাধ্যমে তিনি একদিন আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দেওয়া এক বক্তব্যেরও সরাসরি জবাব দিলেন। দুবাই-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে গত রোববার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছিলেন, ইউক্রেন দূরপাল্লার হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধের তীব্রতা কমানোর একটি বিশেষ প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটি মূলত ফ্রন্টলাইনে কিয়েভের সামরিক বাহিনীর ওপর থেকে চাপ কমানোর একটি কৌশল মাত্র।

পুতিনের এই দাবির জবাবে জেলেনস্কি বলেন, রুশ প্রেসিডেন্টের বক্তব্যই প্রমাণ করে যে তিনি সাধারণ রুশ নাগরিকদের বাস্তব পরিস্থিতি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন। ইউক্রেনের সাম্প্রতিক নিখুঁত ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও শিল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে পেট্রোলপাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট কটাক্ষ করে বলেন, “বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ হয়েও, যাকে আন্তর্জাতিক মহলে অনেক সময় 'গ্যাস স্টেশন' বলা হয়, সেই রাশিয়াই এখন নিজেদের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটে ভুগছে। এটি পুতিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সরাসরি পরিণতি। এমন বহু পরিণতির মধ্যে এটি একটি ক্ষুদ্র উদাহরণ মাত্র।” জেলেনস্কি দাবি করেন, ইউক্রেন বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে কোনো সন্ত্রাস চালাচ্ছে না, বরং নিখুঁত সামরিক হামলার মাধ্যমে রুশ আগ্রাসনের জবাব দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনও ডনবাস অঞ্চল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লক্ষ্যেই আচ্ছন্ন হয়ে আছে। তবে রাশিয়া যদি এখনই যুদ্ধ বন্ধ না করে, তাহলে ডনবাস দখলের নির্ধারিত সময়সীমা ক্রেমলিনকে আবারও পিছিয়ে দিতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর প্রথমে রাশিয়া রাজধানী কিয়েভ দখলের চেষ্টা চালায়। তবে ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রতিরোধে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা সেনা প্রত্যাহার করে পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস (লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক) অঞ্চলে অভিযান জোরদার করে। বর্তমানে রাশিয়া পুরো লুহানস্ক অঞ্চল এবং দোনেৎস্ক ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তবে কিয়েভের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে রুশ বাহিনীর সেই অগ্রযাত্রার গতি অনেকটাই ধীর হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে মাঝারি ও দূরপাল্লার ড্রোন হামলা আরও বাড়িয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে জেলেনস্কি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে একটি খোলা চিঠি লিখে সরাসরি মুখোমুখি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে পুতিন সম্প্রতি যে নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের কথা বলেছেন, সে বিষয়ে জেলেনস্কি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেন, “যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে ইউক্রেন ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক আইন মেনে একাধিক বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু রাশিয়া প্রতিবারই সেগুলো অহংকারবশত প্রত্যাখ্যান করেছে।” পরিশেষে সাধারণ রুশ নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যাঁরা এখনও সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত হননি এবং বর্তমানে জ্বালানির লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁদের সামনে যে কী ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে এখনই ভাবা উচিত।

মন্তব্য করুন