২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক নয়্যারের আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্ব ফুটবলে একটি সোনালী যুগের অবসান ঘটল। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানালেন জার্মানির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার। চলতি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জার্মানির আকস্মিক ও হতাশাজনক বিদায়ের মধ্য দিয়েই জাতীয় দলের জার্সিতে এই মহাতারকার ১৬ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোরে ফক্সবরোর মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ৩২ বা রাউন্ড অব থার্টি টুর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে গড়ানো শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে জার্মানিকে টিকিয়ে রাখতে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন নয়্যার। ম্যাচের নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে পোস্টের নিচে দেয়াল হয়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি পেনাল্টি শুটআউটে প্যারাগুয়ের নেওয়া পঞ্চম শটটি চমৎকারভাবে ঠেকিয়ে দিয়ে জার্মানির আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন এই অভিজ্ঞ অধিনায়ক। তবে সাডেন ডেথের নাটকীয়তায় শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের এমন হৃদয়ভাঙা পরিণতির পর ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের সাথে কথা বলে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিজের অবসরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। পরে সংবাদ সম্মেলনেও জার্মানির জার্সিতে আর না খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ও গৌরবময় ক্যারিয়ারে জার্মানির ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা সাফল্যের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি ছিলেন ম্যানুয়েল নয়্যার। বিশেষ করে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে জার্মানিকে চতুর্থবারের মতো বিশ্বসেরার শিরোপা জেতাতে গোলপোস্টের নিচে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অতিমানবীয়। পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ সব সেভ করার পাশাপাশি আসরের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ জয় করেছিলেন তিনি।
দুর্দান্ত রিফ্লেক্স, নিখুঁত শট ঠেকানো, ডিফেন্ডারদের গাইড করা এবং আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের মতো বক্সের বাইরে এসে বল ক্লিয়ার বা পাস দেওয়ার অনন্য ‘সুইপার-কিপার’ শৈলীর আধুনিক ফুটবলে নতুন ধারার সূচনা করেছিলেন তিনি। আধুনিক ফুটবলার ও বোদ্ধারা তাকে এই পজিশনের সর্বকালের অন্যতম সেরা রেভোলিউশনারি বা পথপ্রদর্শক হিসেবে গণ্য করেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ম্যানুয়েল নয়্যারের এই প্রস্থান কেবল জার্মানি নয়, বিশ্ব ফুটবলের জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি এবং এর মাধ্যমে জার্মান ফুটবলের এক গৌরবময় রূপকথার অধ্যায়ের ইতি ঘটল।
|